বফ্তব-চাদাব্লী সাহিত্তে্ পশ্চাংপর্ ওকস

গৌহাটী বিশ্ববিষ্ালয়ের সাতকোত্তর বাঙ্গাল! বিভাগের অধ্যক্ষ

শ্রীদেবিদাস ভ্টাঙ্র্য

এম. (ট্রিপল), কাব্যতীর্থ

পর্সিবেশক ওরিয়েপ্টাল বুক কোম্পানী কলিকাতা £ গৌহাটা শিরাচর

প্রকাশক গ্রন্থকার পানবাজার, গৌহাট্টী-১

প্রথম সংস্করণ শ্রাবণ, ১৩৭১

মুদ্রাকর

শ্ীঅজিত কুমার রায়

ভ্রীসারদ। প্রিন্টিং

৩১/১ ঘোষ লেন, কলিকাতা-৬

প্রাপ্ডিস্থান £.

ওরিয়েপ্টাল বুক কোম্পানী ৫৬, সূর্যসেন স্ত্রী, কলিকাতা-৯ পানবাজার, গৌহাটী-১ নাজিরপটি, শিলচর-১

মুখবন্

অধ্যাপক শ্রীযুক্ত দেবিদাস ভট্টাচার্য সংস্কৃত প্রাকত বাংলায় নিষাত পণ্ডিত প্রবীণ বিদ্াদাতা। তিনি বেফব সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘকাল অধ্যয়ন চিন্তা করেছেন। ধর্মশীস্্র রসশাস্ত্ের দৃষ্টি নিরাবিল রেখে তিনি কৃষ্ণের ব্রজলীলা-রহস্ত, সাহিত্যের ক্ষেত্র নিরীক্ষণ করেছেন। বৈষ্ণব সাহিত্য আলোচনা করেছেন অনেকেই; তবুও আরও আলোচনার স্থান রয়েছে। এই অনালোচিত ক্ষেত্রের বেশ কিছু অংশ দেবিবাবুর এই গ্রন্থে মিলবে। আলোচিতপূর্ব ক্ষেত্রেও ইনি নুতন শশ্যকণা আহরণ করেছেন। বৈষ্ণব সাহিত্যে ধাদের আগ্রহ এমন অভিজ্ঞ পাঠক এবং বৈষ্ণব সাহিত্য ধার! প্রাণের দায়ে পড়তে বাধ্য এমন কৌতুহলী ছাত্রছাত্রীরা বইটি পড়ে জ্ঞান জ্ঞানজাত উপকার পাবেন।

দীর্ঘসাধনার জ্ঞানবৃক্ষের এই স্ুুপক্ক ফলটির জন্য গ্রস্থকার আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন।

বর্ধমান ্রীন্ুকুমার সেন

চুমিকা

ছেলেবেলায় গল্লীগ্রামে “অগ্রপ্রহর' বা “চব্বিশ-প্রহরে'র আসরে কীর্তনীয়াদের পদাবলী-কীর্তন শুনিয়া বেশ ভাল লাগিত। একটু বড় হইয়। কলেজে পড়িবার সময় বৈষ্ণব কবিদের লেখা ছুই চারিটি কবিতা পড়ি। তখন কবিতাগুলির কাব্যোৎকর্ষের দিকেই নজর ছিল। শিক্ষকতা! করিবার সময় ভাল করিয়া পড়িয়া বুঝিতে পারিলাম, এগুলি কেবল কবিতা নয়, বৈষব- কবিত।_মহাজন-পদাবলী এইস্ত্রে বৈষ্ণব তত্ব-দর্শন সম্পর্কেও কিছু পড়াশুনা করি। তারপর হালের 'গাথাসপ্তশতী” (গাহাসতসঈ ) সম্পাদনাকালে দেখিতে পাইলাম, ইহার কোন কোন প্রেমকবিতার সহিত বৈষ্ঞব প্রেম- কবিতার বেশ সাদৃশ্ঠ আছে। বইটিতে বৈষ্ণব প্রেম-কবিতা সংস্কৃত প্রেম- কবিতা হইতে সাদৃশ্ঠটমূলক পদ চয়ন করিয়া উদ্ধৃতি দিয়াছি। কিছু কিছু নোট্‌ করিয়া রাখি ক্লাসে পড়াইবার সময়ও কিছু সংগ্রহ করি। গাথাসপ্তশতীতে রাধিকা-কৃষ্ণ, গোপী-কৃষ্ণ সম্পর্কে সাধারণ মানবীয় প্রেম-কবিতাগ রচিত হইয়াছে দেখিতে পাই। সংস্কৃত প্রাকতে কৃষ্ণচলীলাবিষয়ক কবিতা বহু প্রাচীন কাল হইতেই প্রচলিত সংস্কৃত-প্রাকৃতে রসসমৃদ্ধ উৎকৃষ্ট প্রেমমকবিতারও অসন্ভাব নাই। ভক্ত বৈষ্বকবিগণ এইগুলি হইতেই যেন প্রেরণা পাইয়াছেন বলিয়। মনে হইল দেখিয় মনে হয় ঠবষ্চব কবিদের অমান্ুষী রাধা-কষ্ণ-প্রেমলীলার কবিতার প্রেক্ষাপটে রহিয়াছে মানুষী প্রেমলীলার কবিতা গ্রস্থমধ্যে এই জিনিসটি দেখাইবার চেষ্টা করিয়াছি। বস্তদর্শক সাহিত্য-রস্বিকের দৃষ্টিকোণ হইতে জিনিষটিকে দেখা হইয়াছে,_-তত্বরসিক ভাবুক মহাজনদের দুককোণ হুইতে নয়। কবি-সার্বভৌম রবীন্দ্রনাথই প্রথম এদিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন (তু. “বষ্ণব কবিতা” )। আশা করি ভাবরসিক বৈষ্ণবগণ ইহাতে ক্ষুপ্ন হইবেন না। “টব্ণব পদাবলী; শ্বগাঁয় বস্ত, রাধাকষ্জ এবং তাহাদের প্রেমলীল। মানুষের মত হইলেও মানবিকতার উধ্বে।

পূর্বহ্ুরিদের নিকট বহু সাহায্য পাইয়াছি। গ্রস্থমধ্যে যথাস্থানে কৃতজ্ঞতা- সহকারে তাহার উল্লেখ করিয়াছি অপক্ষপাতভাবে “সহজ বস্ত' (শ্বাভাবিক বস্তু) আপন ক্ষুত্রশক্তিতে বিবেচনা করিয়াছি কষ্দাস কবিরাজ গোস্বামীর ভাষায় বলা চলে-_

[ ছঃ ] নাহি কাহাষো বিরোধ নাহি কাহা অনুরোধ সহজ বস্ত করি বিবেচন। যদি হয় রাগ দ্বেষ, তাহা হয় আবেশ সহজ বস্ত না যায় লিখন ॥? [ শ্রীচৈতন্তচরিতামৃতে মধ্যলীল। ২য় পরিচ্ছেদ ]

আমার অধ্যাপক শ্রীযুক্ত সুকুমার সেন মহাশয় গ্রন্থটির একটি মহামূল্য মুখবন্ধ লিখিয়! দিয়াছেন। ইহা গ্রন্থ গ্রন্থকার ছুয়েরই গৌরব। আমার ভূতপূর্ব ছাত্র, অধুনা গৌহাটি বিশ্ববিদ্ভালয়ের সাতকোত্বর বাংল! বিভাগে সহকর্মী শ্রীমান্‌ উষারঞ্জন ভট্টাচার্য বইটির সূচীপত্র নির্ঘ প্রস্তত করিয়! দিয়াছেন এবং নানাভাবে সহায়ত৷ করিয়! গ্রন্থটি প্রকাশে সাহায্য করিয়াছেন | তাহার সহিত আমার যে সম্পর্ক তাহাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অবকাশ নাই।

কলিকাতার “ওরিয়েন্টাল বুক কোৎং-এর শ্রীহিতেন্দু ভট্টাচার্য এবং 'শ্রীসারদ! প্রিটিং-এর শ্রীভৈরব নন্দীর অকৃত্রিম সাহায্য না পাইলে বইখানি প্রকাশিত হইত কিনা সন্দেহ ভজ্জন্ত উভয়কেই ধন্যবাদ

শ্রীদেবিদাস ভট্টাচার্য

চা

প্রথম অধ্যায় সু ১--৬. সুচনা গ্রস্থতালিক। দ্বিতীয্ অধ্যাস্ ৭স্্-৩৭

প্রেমের সংজ্ঞা শ্বরূপ- _প্রেমগীতির উদ্ভব বিকাশ--বিভিন্ন শ্রেণীর প্রেমকবিতা আলোয়ার-সম্প্রদায়--ন্ফী-স্প্রদায়-_-বৌদ্ধ সহজিয়'

ভতীয় অধ্যায় *** ৩৮৪৪ লোকসাহিত্য .

চএর্ঘ অধ্যায় রর 8 ধর্মমাধনায় নারীসজিনী

পঞ্চম অধ্যায় --" ৪৮-_৫৫ ভক্তিবাদ--ভক্তির শ্রেণীবিভাগ

মন্ঠ, অধ্যাস্ত ৫৬--৭৮

রসতত্ব-রসের শ্রেণীবিভাগ--গৌড়ীয় রসতত্ব :ও তাহার গ্রকা রভেদ

চাপ্তম অধ্যায় ৭৯--১৩২ রাখাকুষ্চকাহিনীর প্রাচীন টনি ডা পরব্তাঁ রূপ-_ গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন : শ্রাচৈতন্যের “অচিন্ত্যভেদাভেদবাদ', চৈতন্ত-তত্ব --রাধাকৃষ্জলীলার রূপক বা জীবাত্মা-পরমাত্মাবাদ

ঘুম অধ্যায় ১" ১৩৩--১৩৯ শঙ্করদেব বম অধ্যাম্ব ১৪০--১৬৯

গোপীকাহিনী-_পুরাণাদিতে গোখীকাহিনী, রাজী আপৌরাণিক সাছিত্যে গোপীকথা--গোপীপ্রেম বা গোপীভাব-_রাধাতত্ব, প্রাচীন সাহিত্যে রাধার উল্লেখ__সখীসাধনা বা সখীভাব-_শ্বকীয়া পরকীয়া, তত্ব বা শ্রীচৈতন্ত-প্রবর্তিত বৈষ্ণবধর্মে প্রেমের শ্রেণীবিভাগ

[ ছা]

দশম অধ্যাক় *০* ১৭০-৮২৮৪ বৈধব-পদাবলীর উদ্ভব বিকাশ £ বৈষ্ণব পদাবলীর শ্রেণীবিভাগ-_বৈষ্ণব পদাবলীর ভাষা--বৈষব পদাবলীর অলংকার- কীর্তন--পদাবলী-সাহিত্যের কাব্যন্বরূপ-_ প্রাক-চৈতন্য যুগের বৈষ্ণব পদাবলী-_চৈতন্ত-সমকালীন অব্যবহিত পরবর্তী যুগের বৈষ্ণব পদাবলী-_চৈতন্ত-পরবর্তী যুগ-_-আধুনিক যুগের ব্রজবুলি--সংস্কৃতে রচিত বৈষ্ণব পদ্দাবলী

একাদশ অধ্যায় ২৮৫---৫৬০

বৈষুব পদাবলী-সাহিত্য পূর্বতন টি চিনা নী তুলনা- মূলক আলোচনা :

বাল্যলীল। বাৎসল্যরস-_রাধাকুষ্ণের বয়ঃসদ্ষি-বৈষ্ণব পদ-সাহিত্যে পূর্ববাগ অন্থরাগ-_বৈষ্ণব-পদাবলীর প্রেম-বৈচিত্ত্য আক্ষেপাহু- রাগ--রসোৎ্গার--পদাবলী-সাহিত্যে অভিসার--বৈষব পদাবলী সাহিত্যে মান কলহান্তরিতা_-পদাবলী-সাহিত্যে উৎকণ্ঠিতা-_বৈষ্ণব পদাবলী-সাহিত্যে বাসকসজ্জা--বৈষধ পদাবলী-সাহিত্যে বিপ্রলবধা --পর্দাবলী-সাহিত্যে ।খগ্ডিতা--পদাবলী-সাহিত্যে ম্বাধীন-ভর্তৃুকা-_ পদাবলী-সাহিত্যে মাথুর প্রোধিতভর্তৃকা-_ প্রেমের শ্রেষ্ঠ আদর্শ-_ পদাবলী-সাহিত্যে বারমাসিয়৷ চৌমাসিয়া

দ্বাদশ অধ্যায় ৫৬১---৫৯৭ বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যে সম্ভোগ বা মিলননীলা নৌ ক্রীড়া বা নৌকাখণ্ড, দ্রানলীলা, ভাবসম্মেলন বাঁ ভাবোল্লাস, রাসলীলা, বসস্তলীল।

ভ্রষ্মোদশ অধ্যায় ৮৯ ৫৯৮-৬২২ উপসংহার নির্ঘণ্ট ** ৬২৩---৬৩৪

ব্যক্তি-নির্ঘ্ট, প্রস্থ-নির্ঘ্ট, ইংরাজী নির্ঘণ্ট

8.

বৈষ্ঞব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

প্রথন্ম অন্যান

বৈষ্ব-পদাবলী সাহিতা পাঠ করির| কবিকুলগুরু রবীন্দ্রনাথ বৈষ্ণব কবিকে মুগ্ধ চিত্তে প্রশ্ন করিয়াছেন “কোথা তুমি পেয়েছিলে এই প্রেমচ্ছবি' | বৈষ্ণব কবিগণ ব্রজের অপ্রাকৃত রাধাকষ্প্রেমের কথা বলিতে গির। “প্রাককৃত' নর-নারীর প্রেমকে উপেক্ষা করেন নাই ব্লাধাকুষ্ণের অলৌকিক প্রেমের বে বিকাশ-ধার! বৈষ্ণব পদাবলী-সাহিত্যে পায় যায়, তাহ1র হুবহু চিত্র বাস্তব জীবনেও পাওয়! যার। পদ1বলী-সাহিত্ত্যে রাঁধারুষ্ক-প্রেমের পূর্বরাগ, অনুরাগ, মিলন, মান, অভিমান, বিরহ প্রভৃতি পধায়গুলি প্রাচীন ভারতীয় প্রেমসাহিত্যের সহিত একই স্থরে বীধ।। বেষ্ঞব পদাবলীর অপ্রাকত প্রেমের পশ্চাৎপটে রহিয়াছে পূর্বযুগের প্রাকৃত প্রেম যাহা সংস্কত-প্রারত- পালি-অবহট্ঠ সাহিত্য হইতে রসধারা লাভ করিয়াছে রাধাকৃঞ্চের অপাথিব প্রেমলীল! প্রাচীন ভারতীয় অলংকারশাস্ত্র, কাব্য-সাহিত্য কামশাস্ত্রে বণিত পাথিব প্রেমের আদর্শকেই হুবহু অনুসরণ করিয়াছে এই গবেষণামূলক নিবন্বের পরব অধ্যায়গ্ুলিতে আমরা দেখিব যে রাধাকুষ্ণপ্রেমের পটভূমিতে রহিয়াছে__পাখিব প্রেম-যাহ! প্রাচীন ভারতীর কবিগণ তাহাদের কাব্যে বর্ণনা করিয়াছেন। প্রেম-ভক্তিবাদ বা তবদৃষ্টিও তাহার সহিত মিশিয়। গিয়াছে প্রাচীন ভারতীয় প্রেমগীতিকার বিরহের বা দেহাতীত ব! অমূর্ত প্রেমের হুম্ত্রপের বর্ণনা থাকিলেও কবিগণ সন্তোগ বা প্রেমের স্থলরূপের উপরই বেশী জোর দিয়াছেন, কিন্তু বৈষ্ণব কবিগণ প্রবাস বা বিরহের উপরই অধিক জোর দিয়াছেন এবং প্রেমের এই লুম্থ্মৃতি বা উচ্চগ্রাম ( অমূর্তভাব ) হইতে অতি সহজেই তাহারা আধ্য।স্মিকতার স্তরে গিয়া উপস্থিত হইয়াছেন

বৈষণব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

বৈষব-পদাবলী একাধারে সাহিত্য এবং সঙ্গীত। প্রাচীন ভারতীয় গীতিকবিতার বিশেষত সংস্কৃত ,গীতিক্বিতার ধারাই বৈষব-কবিতাতে অনুষ্থত হইতে দেখা যায়। পদাবলী-সাহিত্য শুধুমাত্র রাধাকুষ্ণের অপাখিব (্রেমলীলা-গাখা নহে, কেবলমাত্র দেবতার সঙ্গীত" ব! “দবী-লীলা” নহে, ইহা! যে পাথিব নর-নারীরও প্রেমের ছবি। বৈষ্ণব মহাজনদের রচিত পদাবলীতে মানবজীবন-রহম্য নিখিল নরনারীর প্রণয়লীল! যেন মূর্ত হইয়া উঠিয়াছে। তাহারা কোখা হইতে এই ছবি পাইলেন? রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলা চলে_“কোথা তুমি শিখেছিলে এই প্রেমগান/বিরহ তাপিত 1 অন্ুসন্ধ'ন করিতে প্রবৃত্ত হইরা দেখিতে পাইলাম_কোন কোন গ্রন্থকার এই বিষ সন্বপ্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচন। করিরাছেন, কেহ বা কেবলমাত্র ইঙ্গিতই দিয়াছেন কবিগুরু প্রশ্ন করিয়াছেন_ --“হেরি কাহার নয়ান, রাধিকার অশ্রত্বাথি পড়েছিল মনে ? এত প্রেম কথা” রাধিকার চিত্তদীর্ণ তীব্র ব্যাকুলতা৷ চুরি করি লইয়াছ কার মুখ, কার আখি হতে? ?১ এই প্রশ্নের কোনো উত্তরই কোনো পুস্তকে বিস্তৃতভাবে আলোচিত হয় নাই। বর্তমান গবেষণামূলক নিবন্ধে উক্ত বস্তটি সম্বদ্ষে বিস্তৃত আলোচন। করা হইবে। বর্তমান গবেষণামূলক নিবন্ধে “বৈষ্ব-পদাবলী সাহিত্োর পশ্চাৎপট 3 উস* বিষয়টির বিস্তৃত বিশদ আলোচনা করা হইয়াছে বিশাল সংস্কত-প্রাকৃত-অবহট্ঠ সাহিত্য হইতে ভাবধারা, কাব্যরীতি পদ চয়ন করিয়! বৈষ্ব-পদাবলীর রাধা-কষ-গোপী-প্রেমের পর্যায়ক্রমে সাজান হইয়াছে বৈষব মহাজনদের পদাবলীতে বাধাকৃষ্ণের “অপ্রাকৃত' প্রেমের যে ছবি আমরা পাই, তাহার অনুরূপ চিত্র আমরা নর-নারীর বাস্তব জীবন এবং

“বৈষ্ণব কবিতা”--পোনার তরী

বৈষ্ণব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

পূর্বতন ভারতীয় সাহিত্যেও লক্ষ্য করি। সংস্কৃত-প্রারুত-অবহট্‌ঠ (লৌকিক ) কবিতার সরণি ধরিয়াই জয়দেবের গানে (অর্থাৎ, গীত-গোবিন্দে) বাধাকৃষ্ণ প্রেমলীলা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে এবং তাহা হইতে বৈষ্ণব-পদাবলী সাহিত্যে পরিণতি লাভ করিয়াছে এক কথায়, বৈষ্ঞব-পদাবলীর অগপ্রারৃত প্রেমের পশ্চাৎপটে রহিয়াছে প্রার্কত প্রেম আমার বিশ্বাসমতে- উক্ত বিষয়বস্তুর কোন গ্রন্থেই পূর্ণাঙ্গ ধারাবাহিক আলোচন! করা হয় নাই (তাহা পূর্বেই বলা! হইয়াছে )। ভারতীয় অলংকাবশান্ত্র কাব্যধারার দৃষ্টিকোণ হইতে বৈষ্ণব-পদাবলীকে দেখিবার চেষ্টা করা হইয়াছে সেই সক্গে উহার বৈষ্ণবতা, রাধাকষ্ণতত্ব প্রেমভক্তি আলোচনা! করা হইয়াছে

বর্তমান নিবন্ধটি লিখিবার সময়ে বহু গ্রন্থকারের গ্রন্থ হইতে সাহায্য পাইয়াছি। যে সমস্ত গ্রস্থকারের নিকট হইতে সাহায্য পাইয়াছি, তাহাদের সকলের নিকটই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা শ্বীকার করিতেছি। যে সব গ্রন্থ হইতে প্রত্যক্ষভাবে সাহাষ্য পাইয়াছি, শুধুমাত্র তাহাদের একটি তালিকা! নিম্নে প্রদত্ত হইল।

গ্রন্থ তালিকা

ঞমবস্কিওর্‌ বিলিজিয়াস্‌ কাণ্টস্‌ এযাজ, ব্যাক্গ্র/উও্ড অব. বেঙ্গলী লিটারেচর -_-এস্‌. বি. দাশগুপ্ত ্‌

(0030975 73911%1008 0919 &3 73901:670000 8876811 1416575001৩)

অভিজ্ঞান-শকুন্তলম্‌- কালিদাস

অমরু-শতক চা

»মারুলি হিস্ট্রি অব. বৈষ্ণবিজম্‌ ইন্‌ সাউথ ইত্ডিয়া-_এস্‌, কে. আয়েঙ্গার

(75811571960 ০৫ 81808519700 11 90001810019)

আর্ধাসপ্তশতী- গোবর্ধনাচার্ধ (পণ্ডিত রামকান্ত ত্রিপাঠী সম্পাদিত )

ইন্ট্োডাক্সান্‌ টু তাণ্্রিক বুদ্ধিজম্‌_এস্‌. বি. দাশগুপ্ত

(07000000600, 0 080500 13000101910)

উত্তররামচরিত--ভবভূতি (হরিদাস ভট্টাচার্য সম্পাদিত )

বৈষব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

উজ্জ্ল-নীলমণি_ রূগগোন্বামী

হিস্ট্রি অব ব্রজবুলি লিটেরেচর--ডঃ স্বকুমার সেন

(& 19005 ০0 ড15180011 1165156076)

কবীন্দ্রবচনসমুচ্চয়-_-টমাস্‌ সম্পাদিত

কর্পুরমঞ্জরী--রাজশেখর

কাব্য-প্রকাশ_ মন্মটভট্

কাব্যান্ুশালন _হেমচন্দ্র

কুমার-সম্ভব--'কালিদ।স

কুষ্-কর্ণমৃত--বিন্বমঙ্গল

খিল-হরিবংশ -বঙ্গবাসী সংস্করণ

গাহাসত্তসঈ._ হাল ( রাধাগোবিন্দ বসাক সম্পাদিত )

গীত-গোবিন্দ--জয়দেব

গোবিন্দ-লীলামৃত-রুষ্দদাস কবিরাজ

চধাগীতিপদাবলী-_ডঃ সুকুমার সেন সম্পাদিত

চণ্ডীমঙ্গল- মুকুন্দর।ম

চৈতগ্ণচরিতাম্ৃত- কৃষ্দদাস-কবিরাজ (হরেকুষ্চ মুখোপাধ্যায় স্ব মিত্র সম্পাদিত )

চৈতগ্চরিতের উপাদান--ডঃ বিমানবিহারী মজুমদার

চৈতন্যভাগবত -বৃন্দাবন দাস

জগন্নাথবল্পঙ নাটক-_-বায় রামানন্দ

দানকেলিকৌমুদী--্ূপ গোস্বামী

ধ্ন্তালোক-_ আনন্দবর্ধন

নারদীয় ভক্তিস্ত্র

পদকল্প তরু-_-সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত

পদাবলী-পরিচর-__হরেকষ্ মুখোপাধ্যায়

পদ্মপুর[ণ-_

পদ্যাবলী-_রূপগোসম্বামী (স্থশীলকুমার দে সম্পাদিত )

প্রাকৃত-পৈক্ষল- চন্দ্রমোহন ঘোষ সম্পাদিত

প্রীতি-সন্দর্ভ -জীবগোস্বামী

বাঙ্গাল সাহিত্যের ইতিহাস ( ১ম খণ্ড পূর্বার্ধ পরার্ধ)__ডঃ স্কুমার

বৈষ্ব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

বাঙ্গল! সাহিত্যের ইতিবৃত্ত ( ১ম, ২য় ৩য় খণ্ড) _ডঃ অনিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বংলার লোক-সাহিত্য-_-ডঃ আশুতোষ ভট্টাচার্য বিক্রমোর্বশীয় কালিদাস বিষুর্পুরাণ__বঙ্গবাসী সংস্করণ বিদগ্ধমাধব- বূপগোস্বামী বেণীসংহার-__ভট্টনারায়ণ বৈষ্ণব-পদাবলী- হরেকষ্জ মুখোপাধায় সম্পাদিত বৈষ্ণব-পর্দাবলী-_কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত বৈফব-সাহিতা--ত্রিপুরাশঙ্কর সেনশীস্ী /বধ্চব কে, এও মুভমেন্ট-_হ্শীলকুমার দে (ড81817958% [78101 ৪00. 110561286186) বৈষ্বিজম্‌ শবিজমূ এ্যাণ্ড আদার মাইনরু রিলিজিরাস্‌ সেক্টুস্ব_ আর. জি. ভাগারকর (81509518100 95151970 %00. 001867 10011)01 191121059 99069) ভক্তিরসামৃত-সিন্ধু_-বূপ গোস্বামী ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাস--্ডঃ সুকুমার মেন মহাভারত-_বঙ্গবাসী সংস্করণ ' মালতীমাধব--ভবভূতি মার্কগেয়পুবাণ মেদদত_ কালিদাস মৈমনসিংহ-গীতিক। এবং পূর্ধবঙ্গ-গীতিকা- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত নে 1 রবীন্দ্র সাহিত্যে পদাবলীর স্বান-_বিমানবিহারী মজুমদার রবীন্দ্র রচনাবলী- বিশ্বভারতী সংস্করণ রঘুবংশ কালিদাস রাধাতিস্ত্ রামায়ণ ললিত-মাধব- _বূপগোস্বামী

বৈষ্ণব-পদাবলী সাহিতে)র পশ্চাৎ্গট উৎস

শাঙ্গধর-পদ্ধতি-_ পিট।র পিয়|রসন্‌ সম্পাদিত প্ররুষ্ণকীর্তন-_বড়ু চণ্তীদাস ( বসন্তরঞ্জন বিদ্বদবল্লভ সম্পাদিত ) শ্রীরুষ্ণ-বিজয়_মালাধর বন্থু শ্রীরঞ্ণ-সন্দর্ভ _জীবগোস্বামী ্ীপ্রীপদামৃত-মাধুরী-_ খগেন্দ্রনাথ মিত্র নবদ্ধীপচন্ত্র ব্রজবাসী সম্পাদিত শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা

রাধার ক্রমবিকাশ- দর্শনে সাহিত্যে _শশিভ্ষণ দাশগুপ্ত যোড়শ-শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য- বিমানবিহারী মজুমদার সহুক্তিকণণামৃত- শ্রীধর দাস (স্বরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ) সরহের দোহাকোষ-_প্রবোধচন্দ্র বাগচী সম্প।দিত সাধনম।ল। সাহিত্য-দর্পণ বিশ্বনাথ কবিরাজ ( গুরুনাথ বিদ্য/ নিধি সম্পাদিত ) সিলেক্ট ভাসেস অব গাহাসভ্সঈ অব হাল- _দেবিদাস ভট্টাচার্য (381৩০৮ 67898 01 091589008981 0: 77818) স্ক্তিমুক্তাবলী হিম্স্‌ টর দি আল্ব/রস্_-জে- এস্‌. এম্‌- হুপার (7570709 1০ (1)9 415978)

অজ্ঞাতসারে অনেকের নিকট হইতে বিষয়বস্ত গ্রহণ করিয়াছি, তাহার উল্লেখ করা সম্ভব হয় নাই, তাহাদের কাছেও কৃতন্রতা-সহকারে স্বীকার করিতেছি

হ্হিতীম্য অধ্যাশ্ত্ প্রেমের মং! স্বর্ণ

প্রাচীন ভারতীয় কবি প্রেমের সংজ্ঞা দিতে গিয়া বলিয়াছেন-_ অগ্নোপ্মিলিদস্স মিধুণস্স মঅরদ্ধঅসাসণেণ পরঢং পণঅ-গন্তিং পেম্মং তি ছইল্লা ভণংতি” ।১৯--মদনের আদেশক্রমে পরস্পর মিলিত নরনারীর (যুবক-যুবতীর ) মধ্যে যে প্রণয়গ্রস্থি নিবন্ধ হর, পণ্ডিতেরা তাহাকেই প্রেম বলে ।'

প্রেমের উত্তব তাহার কারণ বহিঃপ্রকাশ বর্ণনা করা হইয়াছে। প্রেমের তিনটি শ্তরকে তিনটি পৃথক্‌ পৃথক নামে অভিহিত করা হয়- প্রণয়, প্রেমগ্রস্থি অনুরাগ যুবক-যুবতী পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করিলে প্রণয় বলা হয়। এই আকর্ষণ নরনারীর বাহিক রূপ-লাবণ্য দেখিয়া জন্মিতে পারে বা পূর্বজন্মের সংস্কারবশে সংঘটিত হইতে পারে

তচ্চেতস৷ ম্বরতি নৃনমবোধপূর্বং ভাবস্থিরানি জননান্তরসৌহৃদানি ।২

_+€যে উৎকঠা) তাহা প্রকৃতপক্ষে জন্মান্তরের জন্য অনুভূত অন্তরে দৃঢবদ্ধ কিন্ত স্পষ্টরূপে অপ্রতীয়মান প্রীতিবিশেষের স্থতিমাত্র ? এই আকর্ষণ মূলত দৈহিক; সাধারণত নায়িকার অপরূপ দেহ-সৌষ্ঠব বা তাহার পঞ্চ স্থন্দর অঙ্গের সম্মিলিত প্রভাবেই প্রণয়ের জন্ম হয়। তাহার পর যুবক বা! যুবতী মুগ্ধ হইয়া নির্জনে অবস্থান করে পরস্পরের রূপ-গুণ লইয়া চিন্তা করিতে থাকে তখন তাহারা নিজেদের কর্তব্য ভূলিয়! গিয়া তাহাদের প্রথম দর্শন হইতে সমন্ত ব্যাপার আলোচনা করিতে করিতে মনে করে যেন প্রিয়তমা বা প্রিয়তম তাহাদের চিত্তে লীন, লিখিত বা প্রতিবিদ্বিত হইয়া গিয়াছে তাহারা তখন সর্বত্রই তাহাদের উপস্থিতি দর্শন করে, অনুভব বা স্পর্শ করে। “ছু অংগ একই পরাণ এই অন্ুভূতিই তখন কার্যকর এই অবস্থার প্রেমকে প্রেমগ্রস্থি বলে। পূর্বাবস্থার সকল সংশয়-সন্দেহ, কলঙ্কের অবলুপ্তি ঘটিয়া থাকে

রাজশেখরের “কপূরমঞ্জরী”, ৩য় জবনিক1। কালিদাস, “অভিজ্ঞান-শকৃত্তলম্‌", ৫ম অঙ্ক ২য় ক্লোক।

বৈঞণব-পদালী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

কবি ভবভূতি বলেন__ ত্বং জীবিতং ত্বমসি মে হদয়ং দ্বিতীয়ং ত্বং কৌমুদী নয়নয়োরমৃতং ত্বমংগে

ইত্যাদ্দিতিঃ প্রিয়শতৈরল্গরধ্য মুগ্ধাং তামেব, শান্তমথবা কিমিহোত্তরেণ ॥৯ _“তুমি আমার জীবন, তুমি আমার দ্বিতীয় হৃদয়, তুমি আমার নয়ন- যুগলের জ্যোংস্থা এবং তুমি আমার অংগে অমৃত, ইত্যাদি শত শত প্রিয়োক্তি দ্বারা সরলাকে (সরলবুদ্ধি সীতাকে ) সন্তষ্ট করিয়া, তাহাকেই__অখবা খাক, আপনার নিকট ইহার পর বলিয়! আর ফল কি ।' এই মন্মথরস ক্রমে ক্রমে বিবধিত হইয়া উভয়ের মনোভাব প্রকটিত করে এই অবস্থায় নানাবিধ বিলাস-বিভ্রম দেখ! দেয়। অন্তরের কামনা-বাসনা তাহাদের দৃষ্টিতে, ব্যবহারে ধরা পড়ে, ছুর্লকষ্য হইলেও প্রকাশিত হইয়! পড়ে তাহাদের হ্বদয়ের “তপ্ততৃষ।" চিত্তগত প্রেমেই অন্ুরাগের উত্পত্তি। রমণীর দেহ-লৌভাগ্যই প্রেমের প্রত হেতু, অলংকারাদির শোভ। নিতান্ত গৌণ। রাজরাণী, গৃহস্থ রম্ণী সাধারণ নারীর প্রেমের মধ্যে কোন বিশেষত্ব নাই, যেহেতু বনুমূল্য অলংকারের উপর প্রেম নির্ভর করে না। কোনে! কালে, কাহারও সহিত যদ্দি প্রেমের বন্ধন হয় তবে তাহার কারণ কিন্ত সকল সময় 'বূপ' নয়, কেননা প্রেমই নিজের স্বভাবে সৌন্দর্য স্থা্টি করিনা লয়। প্রেমের গতি দুক্জেয়, বক্র - বোঝ। বড়ই শক্ত আবার প্রেম-সংঘ্টনের ংগত কারণও খু জিয়! পাওয়া যায় না। ব্যতিষজতি পদার্থনান্তরঃ কোইপি হেতু- নন খলু বহিরুপাধীন্‌ প্রীতয়ঃ সংশরয়ন্তে ।২ _--"আভ্ন্তরিক কোন করণ পদার্কে পরম্পর সম্মিলিত করে, কিন্তু ভালবাসাটা বাহিরের কোন সম্পর্ককে অবলম্বন করে না। আবার কাহারও প্রতি কাহারও অন্ুরাগাম্মক প্রণয় জন্মে, যে প্রণয়কে লোকে “তারামৈত্রক' বলে, সেই প্রণয়কে লোকে 'ইয়ত্তাবিহীন' “অকারণজন্' বলিয়া থাকে আবার, অকিঞ্চিদিপি কুর্বানঃ সৌখ্যৈদু€খান্যপোহতি তত্তম্ত কিমপি ত্রব্যং যো হি যন্ত প্রিয়ো জনঃ

পপ পান পার আপ» সপ

ভবভৃতি, 'উত্তররামচারত'। ভবভৃতি, উদ্ভতররামচরিত ৬১২। ভ্তবদ্ভুতি।

প্রেমের সংজ্ঞা স্বরূপ

_-( প্রিজন ) কিছু ন! করিয়াও শখ দ্বারাই দুঃখ নাশ করে, কারণ ষে যাহার প্রিয়জন সে তাহার নিকট কোন অনির্বচনীয় জ্রব্য দাম্পত্য প্রেমের স্বরূপ বুঝাইতে গিয়! ভবভূতি একটি অপূর্ব কথা বলিয়াছেন। রাম সীতার 'দাম্পত্য-প্রেম প্রসঙ্গে কবি কথাটি বলিয়াছেন-_

অদ্বৈত সুখছুঃখয়োরহ্ুগুণৎ সর্বান্ববস্থান্থ যৎ

বিশ্রামে হৃদয়ন্ত যত্র জরসা ঘন্মিননহাধ্যো রস: |

কালেনাবরণাতায়াৎ পরিণতে যং ন্নেহসারে স্থিতং

ভদ্রং তন্য স্থমান্ষস্ত কখমপ্যেকং হি তৎ প্রাপ্যতে

যে বস্ত স্থখ দুঃখের অভিন্ন আশ্রয় এবং সকল অবস্থাতেই অনুকুল,

যেখানে পরিশ্রান্ত হৃদয়ের বিশ্রাম হয়, যাহার প্রতি অন্ুরাগকে বার্ধক্যও হরণ করিতে পারে না এবং কালে লজ্জার আবরণের অভাব হইলে, যাহা! অনুরাগের পরিপরু উংক্ষ্ট অংশে অবস্থান কবে, সেই সঙ্জনের নিম্মবচ্ছিন্ন সেই মঙ্গলটি অতিকষ্টেই পাওয়া যায়।

ভারতীয় কবিগণ প্রেমের মিলন বিরহ প্রভৃতি বিভিন্ন অবস্থা বর্ণনা করিয়াছেন। বেশীর ভাগ কবিই দেহজ প্রেমের বা! প্রেমের সুলরূপের বর্ণনাই করিয়াছেন তাহাদিগকে 'ভোগের কবি বলা যাইতে পারে। মহাকবি কালিদাস ইহাকে 'ইন্দ্রিযক্ষোভ' বলিয়াছেন।২ এই কামনা-বাসনা বা ইন্দ্রিয়জ প্রেমের ভম্মাধারেই বিশুদ্ধ বা প্রকৃত প্রেমের জন্ম দেহের অন্তরায় দূরে সরিয়া গেলেই আম্মা আ্মায় মিলন হয়, এই মিলনই কালিদাসের কাব্যে দেখা যায়। “ভোগের দ্বারা ভোগের নিবৃত্তি হয় না, অদ্িতে আহুতি দিলে যেমন তাহার তেজ আরও বাড়িয়া যায়, সেইরূস কামনা'র সেবা করিলে কামনা বাড়িয়াই চলে'।৩ ভোগসর্বস্ব ূপজ প্রেম “কুমার-সম্ভবে' মহাদেবের তৃতীয় নয়ন-বহ্ছিতে দগ্ধ হইয়াছে, “শকুন্তলা"য় খষি-শাপবিদ্ধ হইয়। বিরহত|পে বিশর্ণ হইয়াছে

কালিদাস, ভবভূতির মত কবি প্রেমের দেহাতীত অবস্থা বা! বিরহের উপরই জোর দিয়াছেন বেশী সাধারণত সংস্কৃতকাব্যে দেহমুখ্য' “দেহাতীত' বলিয়া প্রেমকে ছইভাগে বিভক্ত কর! হয় নাই। বৈষবেরাই এই ভেদ প্রথমে ১. উত্তররামচরিত ১৩৯

“অথেম্ত্িরক্ষোভ-মযুগ্মনেত্রঃ পুনর্ব শিত্বাদূলবন্লিগৃছ্য'__কৃমারলত্ত ৩1৬৯ নযাতু কাম: কামানা ম্বপভোগেন শাম্যতি। হবিষ] কৃষ্ণবত্তোব ভূয় এবাভিবন্ধতে মনু ২1৯৪

১০ বৈষ্ুব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উত্স

নিরূপিত করেন। তবে কালিদাসের “কুমারসন্তব' কাব্যে সৌন্দর্য-নিরপেক্ষ বিশ্তুদ্ধ প্রেমকে স্পষ্টত বড়ে৷ করিয়া দেখান হইয়াছে মদনভস্মের পরে পার্বতী-_ ব্যর্থং সমর্থয ললিতং বপুরাম্মনশ্চ সখ্যোঃ সমক্ষমিতি চাধিকজাতলজ্জা শূন্যা জগাম ভবনাভিমুখী কথঞ্চি ॥৯ “নিজের অনিন্দান্ন্দর দেহ, বিশেষ করিয়া সথী দুইজনের সমক্ষে, ব্যর্থ হইল দেখিয়৷ গাঢতর লজ্জায় মুখ নত করিয়া কোনক্রমে গৃহাভিমুখে চলিলেন।' তারপরে “নিনিন্দ রূপং দ্বদয়েন পার্বতী, (সমস্ত হৃদয় দিয়া রূপকে পার্বতী নিন্দা করিলেন ) এবং “ইয়েষ স! কর্ত,মবন্ধরূপতাৎ সমাধিমা- স্থায় তপোভিরাত্মন:-_-একাগ্রতার সহিত তপন্তা অবলম্বন-পূর্বক নিজের বিফল সৌন্দর্যকে সার্থক করিয়! তুলিতে তিনি বদ্ধপরিকর হইলেন। কারণ “অবাপ্যতে বা কথমস্তাথা দ্বয়ং তথাবিধং প্রেম পতিশ্চ তাদৃশ:-_অন্তথা তেমন প্রেম এবং তেমন স্বামী আর কেমন করিয়! লাভ কর! যায় বিরহের দহনেই প্রেমের দীপ্তি প্রেমের এই অতি স্ুক্মভাব হইতে অতি সহজেই আধ্যাগ্মিকতায় পৌছান যায়। বৈষ্ণব কবিগণ রাধাকুষ্ণ-প্রেমের বিরহের উপরই জোর দিয়াছেন, তাহা হইতে ধাপে ধাপে অলৌকিক ্তরে আসিয়। উপস্থিত হইয়াছেন এবং প্রেমকে পুজার সামগ্রী করিয়াছেন__“যাবে বলে ভালবাস! তারে বলে পূজা ।'* পূর্বেই উল্লিখিত হইয়াছে-_দেহজ কামনা হইতেই বিশ্তুদ্ধ প্রেমের উদ্ভব হইয়াছে যেমন পঙ্ক হইতেই পপস্কজে'র জন্ম, তেমনি দেহজ প্রেম হইতেই বিশ্তুদ্ধ প্রেমের উদ্ভব এই কাম প্রেমের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। কাম বিশুদ্ধ প্রেমের প্রভেদ বৈষবেরাই স্পষ্টভাবে দেখাইয়াছেন। প্রেমের ছুই ব্ূপ-_- উজব প্রেম (ব! দেহজ প্রেম ) স্বগীয় প্রেম বৈষ্বাচাধ কষ্*দাস কবির|জের শ্রচৈতন্থচরিতামৃতে কাম প্রেমের পার্থক্য দেখান হুইয়াছে-_ কাম প্রেম দোহাকার বিভিন্ন লক্ষণ। লৌহ আর হেম যৈছে স্বরূপ বিলক্ষণ

কুমারলত্বব ৩৭৫। কৃমারসভ্ভব ৫1২। চৈতালি-_রবীন্রনাথ।

প্রেমের সংজ্ঞা স্বরূপ ১১

আত্মেব্দিয়-গ্রীতি ইচ্ছ_তারে বলি কাম। কৃষেঞ্দরিয়-প্রীতি ইচ্ছা ধরে প্রেম নাম ॥১ বিশ্বদ্ধ প্রেমের স্বভাব হইল প্রেমাম্পদের জন্য আহ্মত্যাগ, নিজের বলিতে যাহা কিছু আছে, সবই প্রেমের জন্য ত্যাগ করিলে, তবেই প্রেম সার্থকতা লাভ করে। নিজের সম্পদ, লোক-লাজ, লোক-ভয়, যশ, মান, এমন কি, জীবন পর্যন্ত প্রেমের জন্য উপেক্ষা করা যায়। প্রেমকে প্রেমিকেরা নিত্য নৃতন করিয়া আম্বাদ করিয়া থাকে প্রেমের আবেগ এতদূর বাড়িয়! যায় যে বিরহে তাহারা মৃত্যুতুল্য বেদনা অনুভব করির! থাকে সীতা-বিরহে রামের অনুরূপ অবস্থা ভবভৃতি বর্ণন! করিয়াছেন-__ দলতি হদয়ং গাচোছেগো দ্বিধা তু ডিদ্যতে বহতি বিকলঃ কায়ো মোহং মুঞ্চতি চেতনাম্‌। জলয়তি তন্ুমন্তর্দাহঃ করোতি ভন্মষাৎ প্রহরতি বিধিশর্মচ্ছেদী কৃন্ততি জীব্তিম্‌ ॥২ --প্াঢ় শোকাবেগ হৃদয়কে দলিত করিতেছে, কিন্তু ছুইভাগে বিভক্ত করিতেছে না, বিকল দেহ মোহ বহন করিতেছে, কিন্তু একেবারে চৈতন্য ত্যাগ করিতেছে না, অন্তরের দাহ দেহকে জ্বালাইতেছে, কিল্ঞ একেবারে ভন্ম করিয়া ফেলিতেছে না, এবং মর্মচ্ছেদী বিধাতা প্রহ|র করিতেছেন বটে, কিন্তু একেবারে জীবন নষ্ট করিতেছেন না ।' প্রেমের শক্তিতে তাহার! মৃত্যুকেও জয় করিতে পারে, মৃত ব্যক্তিকে জীবনদান করিতে পারে মহাভারতের সাবিত্রী-সত্যবানের কাহিনীতে পাই, সাবিত্রী প্রেমের বলে মৃত শ্বামীর জীবন দান করিয়াছিল। চণ্ীদাষের রাগাত্মিকা পদেও এই ধরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায় মরমে মরমে, জীবনে মরণে জীয়ন্তে মরিল যারা নিতুই নূতন পীরিতি রতন যতনে রাখিল তারা

চৈতন্য চরিতাম্বত” আছি? হর্থ পরিচ্ছেদ উত্তপরামচরিত ৯১২ 7 মালতীমাধব ৩।৩১

তৃতীম্্র অধ্যান্ত্ পরেম-গীতির উদ্ভব বিকাশ

প্রেমের উপর দৈবীভাব আরোপ করার পূর্বে সাধারণ নরনারীকে ঘিবিয়াই প্রেমের উদ্ভব হয় তাহা বিকাশ লাভ করে।

বেদ-বেদাঙ্গ গ্রভৃতিতে যে প্রেমের কথা বা যে প্রেম-সংগীত আমরা পাই- তা একান্তভাবেই বান্তব জগতের বন্ত।

প্রেম বস্থট বড় কঠিন, গতিপথও তার বিচিত্র। নদী যেমন উৎসমুখ হইতে বাহির হইয়! বিচিত্রধারায় বিচিত্র গতিতে প্রবাহিত হইয়। শাখা- প্রশাখার হ্থষ্টি করে ঠিক তেমনি হরদয়ের অন্তস্তল হইতে উদ্ভূত হইয়া প্রেম বিচিত্র পথে বিচিত্র ধারায় প্রবাহিত হইতে থাকে

খগবেদের অনেকস্থানে নরনারীর প্রেমের কখ। আছে, এই গাথাগুলিকে অনেকে গান বলিয়াছেন যমযমী-সংবাদটিকে প্রেমগাখা বল! যাইতে পারে। ষমী বিবাহের জন্য যমকে বলিল, যম ভগিনীসম্পর্ক হেতু বিবাহ করিতে অস্বীকার করিল। তাহার উত্তরে যমী বলিল-_বিধাতা গর্ভমধ্যেই আমাদিগকে স্বামী-স্ত্রী করিয়াছেন অথর্ববেদে ভগিনী সম্পর্কেও বিবাহ হইতে দেখা যাঁ়ি। খগ.বেদের পুরূরবাঁউর্বশীর শুক্তকে প্রেমের কবিতা বলা! যাইতে পারে। “ধগবেদের এই উর্ধশী-পুরূরব।র স্ক্ুটি কবিতা হিসাবে অত্যন্ত জোরালো, বাস্তব, হ্বদয়োষ্জ, উদ্জ্রল প্রেমের কবিতা--বৈদিক ভাষার কঠিন শুক্তিপুটে আধৃত একটি চিরন্তন কবিতা ।”১ এই গাথাগুলিতে মিলন বিরহ সব কিছুই দেখা যায়। খগবেদের এই নাট্যরসময় গাখাটি (১০৯৫) আধুনিক কালি পর্যন্ত চলিয়া আসিয়াছে ব্রা্ষণে, মহাভারতে কালিদাসে এবং শেষে রবীন্ত্রনাথে পৌছিয়াছে।

অথববেদে দেখিতে পাই-“লতা যেমন বুক্ষকে সর্বাংশে জড়াইয়৷ ধরে, তুমিও সেইন্ধপ আমার শরীর আশ্রয় করিতে ইচ্ছা! কর, আমার পদ, আমার চক্ষু পাইতে ইচ্ছা কর, তোমার কামনাপূর্ণ নয়ন প্রেমে উচ্ছলিত হউক, তুমি আমার বাহুতে লীন হও, আমার ঘদয়ে লাগিয়া থাকো, তুমি আমার নিজের

ভারতীয় সাহিতোর ইতিছাল, ডঃ সুকুমার সেন।

প্রেমগীতির উদ্ভব বিকাশ ১৩,

হও” নারীকে জয় করার জন্য এই স্ক্তটি উল্লিখিত। এই জাতীয় স্ক্ত আরও আছে, (যেমন, হ্ুত্ত ৮১ ৯১ ১০২, ১২৯১, ১৩০১ ১৩১১ ১৩২)। ধগবেদের উষাস্থক্তে অন্যত্র এই ধরণের চিত্র পাওয়া যায়, তবে প্রসঙ্গটা অন্তরূপ

আনুমানিক দ্বিতীয় শতাব্দীতে রচিত ভরতের নাটাশাস্ত্রে 'ঞ্রবা” নামে যে গানের উল্লেখ রহিয়াছে, সেগুলিকে প্রাকৃত গীতিকবিতার আদিরূপ বলিয়া গণ্য করা চলে, (ঞ্ুবা€ঞপদ )। এই ধরণের গানের মাধ্যমে নায়ক-নায়িকার মনোভাবের প্রকাশ পাইত।

সসিকিরণ-লম্বহার। উড্ুগণ-কিদাবতংস!। গহগণ-কিদঙ্গ-সোভা জুবদি বিম ভাদি রাঈ

চন্দ্র কিরণের হ।র লম্বিত করিয়া, তার।র শিল্পোভূষণ পরিধান করিয়া এবং গ্রহগণের অলঙ্কার অঙ্গে সঙ্ঞিত করিয়! রাত্রি ষেন যুবতীর মত শোভা পাইতেছে 1

আন্মানিক শ্রষ্ীয় দ্বিতীয় শতাববীতে রচিত “শিলগ্লাদিকারম্‌” ব! নৃপুরের কাব্য নামক তামিল সাহিত্যে বৈষ্ণব-পদাবলীর অনুরূপ 'রাসলীলা' বস্ত্রহরণ লীলার গান পাওয়া যায়। রাসলীল। বা! গোপীগীত-_

“সখি, যে মায়বন বিস্তৃত ত্রজে কুরুন্ত (যমলাজুন) বৃক্ষ ভঙ্গ করিয়াছিলেন তিনি যদি দিনের বেলায় আমাদের গাভীদের মধ্যে আসেন, তাহা হইলে আমরা তাহার “মুল্পই' বেণু শুনিতে পাইব কি?

“আমরা সেই মনোরম স্বন্দরী পিক্নয়ইয়ের লাবণ্যর কথা গান করিব, যিনি যমুনার তীরে তীরে শ্বামীর সঙ্গে নাচিয়াছিলেন ।”১ বন্ত্রহরণলীলা গান-_

“আমরা কেমন করিয়! তাহার রূপ বর্ণনা করিব, যিনি স্ুবমধ্যম! প্রিয়ার বন্ত্র লুকাইয়া ফেলায় সেই দয়িতা একেবারে মাথা হেট করিয়া! রহিয়াছিলেন ? আর সেই স্বন্দরীর মুখের শোভাই ঘা কিরূপে বলিব যিনি তাহার গ্রিয়তমকে কাপড় লুকাইয়া ফেলার জন্য অনুতপ্ত দেখিয়া তাহার ছৃঃখে ছুঃখিত হইয়াছিলেন ।'২

১. শিলগলাদিকারম্‌। পৃঃ ২৩২-২৩৩ ঘোড়শ শতাব্বীর পদ্দাবলী-সাহিত্য--ডঃ বিমানবিহারী মজুমদার পৃঃ ১৫৬-১৫৭

১৪ বৈষুব-পদাবলী সাহিত্যের গশ্চাৎপট উৎস

প্রাচীন গীতিকবিতার বেশীর ভাগই ধর্মকে অবলম্বন করিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে। নিছক লোকরঞ্জনের জন্যও প্রেমগীতি দেখা যায় বিশেষ করিয়া সংস্কত-প্রাকত প্রকীর্ণ কবিতায় কালিদাসের বিক্রমোর্ধশীয় নাটকে প্রাচীন অপন্রংশে রচিত কয়েকটি গান আছে। এখানে একটি উদ্ধত করিতেছি চিন্তা-দুম্মিয়মাণমিআ | সহঅরি-দংসণ-লালমিআ বিঅসিঅ-কমল-মণোহরএ | বিহরই হংসী সরোবরএ ॥১ -_সহচরীর দর্শনোংস্থক হংসী চিন্তাভারগ্রস্ত মনে প্রফুল্লকমলযুক্ত মনোহর সরোবরে ঘুরিয়৷ বেড়াইতেছে। সংস্কৃত ভাষায় প্রথম পদ রচনা পাই কালিদামের বিক্রমোর্বশীয় নাটকে পদাটর ভাষা সংস্কৃত হইলেও ছন্দ সংস্কৃতের নয়-_মিলহীন এবং বিষম মাত্রিক,_- অভিনব-কুন্থমস্তবকিততরুবরম্য পরিসরে মদকল-কোকিল-কুজিত-রবঝঙ্কারমনোহরে | নন্দনবিপিনে নিজকবরিণীবিরহানলসন্তপ্তো বিচরতি গজাধিপ এরাবতনাম। নাটকখানিতে পুরূরবার বিরহই লক্ষণীয়, (উর্বশীর নহে)। রামায়ণে উত্তররামচরিতে র|মেরই বিরহ-প্রকাশক শ্লোক প্রাধান্য লাভ করিয়াছে ভবভূতির উত্তররামচরিতের তৃতীয়াঙ্কে রামের হাদয়-বেদনাই প্রকাশ পাইয়াছে। যেমন, হা হা দেবি! ক্ফ,টতি হাদয়ং, অংসতে দেহবন্ধঃ শুন্য মন্যে জগদবিরতজ্বালমন্তর্জলামি | সীদমনন্ধে তমসি বিধুরো৷ মজ্জতীবান্তরাস্া বিশ্ব$মে|হঃ স্থগয়তি, কখং মন্দভাগ্যঃ করোমি ॥২ চায়! হায়! দেবি! হ্বাদয় বিদীর্ণ হইতেছে, দেহের সন্ধিবন্বান সকল খুলিয়৷ যাইতেছে, জগংটাকে শুন্ত এবং অবিশ্রান্ত জালাময় মনে করিতেছি,

কালিদাস, বিক্রমোধশীয়, ধর্থ অন্কে। ভবতৃতি, উত্তররামচরিতে, ৩য় অন্কে।

প্রেমগীতির উদ্তব বিকাশ ১৫

ভিতরে দগ্ধ হইতেছি, বিকল অন্তরাজ্মা অবসন্ন হইয়। প্রগাঢ় অন্ধকারে যেন মগ্ন হইতেছে এবং মৃচ্ছ! সকল দিক আবৃত করিতেছে হায়! মন্দভাগ্য আমি এখন কি করি ।' কালিদাসের “অভিজ্ঞান-শকুস্তলে হংসপদিকার গানেও অঙ্ুূপ ভাব প্রকাশ পাইয়াছে। অহিণবমহুলোলুবে! তুমং তহ পরিচুম্বিম চুঅমপ্তরিং। কমলবসইমেত্তনিব্ব,দে মহুঅর বিস্বমরিদোসি ণং কহং ॥৯ -_ওগো অভিনবমধুলোভভাবনামণ মধুকর, তেমন করিয়। আত্মঞ্জরী চুম্বন করিয়া আসিয়া, এখন পদ্মবনে বসিবামাত্রই শান্ত হইয়৷ তাহাকে কেন ভুলিয়া গেলে ।' শকুন্তল! নাটকের প্রস্তাবনায় নটার গানটিও প্রসঙ্গে গ্মরণীয়_ থণচুন্বিআাই ভমরেহি উহ স্থুউমার-কেসর-সিহাি অবঅংসঅস্তি সদঅং সিরীসকুস্থমাই পমআও _-দেখ, ভ্রমরের দ্বারা মুহূর্তকালমাত্র চুম্িত পেলবকেশরশিখাবিশিষ্ট শিরীষ ফুলগুলি মেয়েরা সন্তর্পণে কানে পরিতেছে মেঘদূত তো বর্ধার প্রেমসংগীত-_যক্ষের বিরহগান | “নরনারীর প্রেম সম্পর্কে শুধু বিরহ লইয়। বিরচিত ইহাই প্রথম কাব্য, এমন কি মূল কবিতা মেঘদূতে যাহার প্রথম পদক্ষেপ ভারতীয় সাহিত্যের সেই প্রেম-কবিতা! বৈষ্কব- পদাবলীতে বিচরণ করিয়া রবীন্দ্রনাথের কবিতা-গানে আসিয়া পৌছিয়াছে। মেঘদূতে প্রিয়াবিরহ, বৈষ্ণব-পদাবলীতে প্রিয়বিরহ, রবীন্দ্রনাথের কবিতায় গানে নিখিলবিরহ এই ত্রিবিক্রম বর্যাকে লইয়াই। শুধু বিরহের ব্যাপারেই নয়, বৈষ্ণব-পদাবলীর বিষয়ব্যবস্থারও কিছু কিছু মেঘদূতে পূর্বাভাসিত। যেমন, অভিসার, সঙ্কেত স্থানে মিলন, মান, স্বপ্র- সমাগম ইত্যাদি ।২ যেমন, যক্ষ মেঘকে উদ্দেশ করিয়া বলিতেছে-_ উংসঙ্গে বা মলিনবসনে সৌম্য নিক্ষিপ্য বীণাং মদ্‌গোত্রাঙ্কং, বিরচিতপদং গেয়মুদ্গাতৃকামা

শকুত্তলে ৫1১ ভঃ সুকুমার সেন- ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাস পৃঃ ২৮২

১৬ বৈষ্ব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

তত্ত্ীমার্রীং নয়নসলিলৈঃ সারয়িত্বা কথংচিং ভূয়োভূরঃ ম্বরমপি কৃতাং মুছনাং বিন্মরন্তী ( মেঘদূত )

-£হে প্রিয়দর্শন, হয়ত মলিনবসনা সে কোলের উপর বীণাখানি টানিয়া আমার ভনিতা-দেওয়া কথার-গাখা গান গাহিতে গিয়া চোখের জলে ভিজ বীণাতন্ত্রী কোনো রকমে বীধিয়। লইয়। নিজের উদ্ভাবিত মুছনা বারবার নিজেই ভূলিয়৷ যাইতেছে

“রাধারুষপদাবলার প্রান সুর বিরহের। বিরহ-স্বরের রণনেই বাৎসল্যের, অন্রাগের এবং মিলনের শ্রেষ্ঠ পদগুলির উৎকর্ষ সংস্কৃত সাহিত্যে বিরহ প্রধানত পুরুষের তরফে যেমন, খগ্েদে পুরূরবার বিরহ, রামায়ণে রামের খিরহ, মেঘদূতে যক্ষের বিরহ। নবীন আর্ধভাষার সাহিত্যে তখা বৈষ্ণব-গীতিকাধ্ে ধিরহ একান্তভাবে নারীরই ইহার কারণ ছুইটি। এক, ইতিমধো সংসারে নারীর মধাদা হাস পাইয়াছে। ছুই, প্রাদেশিক সাহিত্যের প্রধান বিষয়গুলি মেয়েলি ছড়া-গান হইতে গৃহীত 1১

অমরুশতকের এক একটি কবিতা! প্রেমের এক একটি নিখুত চিত্র। এগুলিকে প্রেম-সঙ্গীত বলা যাইতে পারে যেমন--

গতে বাল্যে চেতঃ কুন্মধনূষা সায়কহতং ভয়াদাক্ষোবাস্ত।ঃ স্তনযূগমতূ্সিজিগমিযু। সকম্পা৷ ভ্রবল্লী চলতি নয়নং কর্ণকুহরং

কশং মধ্যং ভূমী বলিরলসিতঃ শ্রোণিফলকঃ ॥২

শৈশব অতিক্রান্ত হইলে চিত্ত মদনের কুন্থমধন্ দ্বারা আহত হইয়াছে; ইহা দেখিয়া তাহার স্তনযুগল যেন ভয়েই নিক্ষান্ত হইতে ইচ্ছুক হইয়াছে। জযুগল কম্পিত হইতেছে, লোচন কর্ণকুহরের দিকে চলিয়াছে; (শরীরের ) মধ্যপ্রদেশ ক্ষীণ হইয়া গিয়াছে, বলি বক্রতা প্রাপ্ত হইয়াছে, নিতম্বযুগল অলস হইয়া! পড়িয়াছে।'

স্কত নাটকের প্রেমের কবিতাগুলি গান আকারেই স্থর সংযোগে গাওয়! হইত। এই যুগের কবিতাগুলিকে গীতি-কবিতাই বলা যাইতে পারে। সংস্কতে গাথা মানে গান, সেইদিক দিয়! বিচার করিলে বৌদ্ধ হুত্রপিটকের

বাঙ্গাল সাইত্যের ইতিহাস ১ম পর্ব, পৃধাধ--ডঃ সুকুমার সেন অমর শতক (সহৃজিকর্ণাম্ৃতে ২২1৫ উদ্ধৃত)

প্রম-্গীতির উত্তব বিকাশ ১৭

অন্তর্গত থেরীগাথা"গুলিকেও সঙ্গীত বলা যায়। এগুলিতে খেরীদের (সন্গ্যাসিনী ) পূর্বজীবনের প্রেমের কথাও পাওয়া যায়। অশোকের অন্ুশাসনের সমকালে একটি গুহালিপিতে একটি পদ্যে নিরাশ গ্রণয়ীর উচ্ছবাসের বাণী বিধৃত হইয়াছে-_ শুতমুক নম দেবদশিক্যি তং কময়িথ বলনশেয়ে দেবদিনে নম লুপদখে ।৯ _-্ৃতম্থকা নামে দেবদাসিক৷ তাহাকে ভালোবাসিয়াছে বারাণসেয় দেবদিন্ন নামে রূপদক্ষ |" গাহাসত্তসঈ ( গাথাসপ্তশতী ) শৃঙ্গাররসাম্মক কোশগ্র্থ। বনু প্রেম-কবিতা গ্রন্থখানিকে বৈশিষ্ট্য দান করিয়াছে পাঅ-পডিও গণিও পিও ভণন্তো বি পি অগিঅং ভণিও। বচ্চস্তো! বি রুছ্ধো ভণ কম্স কএ কও মাণো ।২ -নায়ক পাদপতিত হইলেও তুমি তাহাকে গণ্য কৰ্‌ নাই, সে প্রিয় কথা বলিলেও তুমি অপ্রিয় কথা শুনাইয়াছ, সে চলিয়া! গেলেও তুমি তাহাকে রোধ কর নাই, বলত, কাহার জন্য মান করিয়াছ ? অচ্ছীইং তা থইস্সং দোহিং বি হথেহিং বি তস্সিং দিট্ঠে। অঙ্গং কলম্বকুস্থমং পুলইঅং কহং এু ঢক্কিস্সং 1৩ -_-“তিনি (প্রিয়) দৃষ্ট হইলে, আমি না হয় ছুই হস্ত ছার! দুই নেত্র ঢাকিয়া ফেলিতাম, কিন্তু কদস্বকুস্থমের গ্যায় পুলকিত সমগ্র শরীর কেমন করিয়া ঢাকিব?' অবহট্ঠ-সাহিত্যেও বহু প্রেমের কবিত। পাওয়া যাঁয়। রাধাকুষ্চকে লইয়। নিছক প্রাকৃত প্রেমের কবিতা 'প্রাকৃত-পৈঙ্গলে' সংগৃহীত হইতে দেখা যায় নবি মঞ্জরি লিজ্জিঅ চুঅই গাচ্ছে পরিফুল্লিঅ কেন্ু-লআ বণ আচ্ছে। জই ইখি দিগন্তর জাইহ কস্তা কিনব বস্মহ নখি কি নথি বসস্তা বি (0955 11080290190, 91008, «08568 ৪7৫ 11589156890 10 গাহাপতসজী, ৪1৯০1] গ্াহাসতসঙী, ৪81১৪।

১৮ বৈষ্ণব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

_-দনিবষঞ্জরী ধরিয়াছে চুত গাছে, কিংশ্তক লতাবন পরিফুল্লিত হইয়াছে যদি এতেও, হে কান্ত, দিগন্তর যাও তবে কি মন্সথ নাই, বসন্তও কি নাই ।' রুষ্চলীল! অবহট্‌ঠ (লৌকিক ) কবিতার একটি বিশিষ্ট বিষয়। অবহট্ঠের সরণি ধরিয়াই জয়দেবের গান এবং তংপরে বৈষ্ণব-পদাবলীর অগ্রগতি নীচের পুরাণে! অবহট্‌ঠ কবিতাটি কুফর ব্রজ-প্রেমলীলা ঘটিত-_ রাহী দোহড়ি পঢ়ণ স্থণি হসিউ কণহ গোআল। বৃন্দাবণ-ঘণ-কুগ্ঘঘর চলিউ কমণ রসাল ॥১ -প্রাধিকার দোহাটি পড়। শুনিয়৷ কষ্চগোপাল হামিল, আর বুন্দাবনের নিবিড় কুপ্ধগুহে কেমন রসাল মনে চলিল।, রামতর্কবাগীশ সঙ্কলিত “প্রাককৃত-কল্পতরুর” একটি কবিতাতে রাধাকৃষ প্রেমলীলার আভাস দেখি-_ রাহীউ ব|লাউ জুআণু কণহ। কীলন্ত আলিঙ্গই কণহ গোবী "রাধিকা নবযুবতী, কৃষ্ণ নবযুবক, কৃষ্ণ গোপী (রাধা) আলিঙ্গনাদি দ্বারা কেলি করিতেছেন চর্ধাপদে ববপকের ছলে “প্রেমসংগীত” দেখ! যাঁয় অনেকস্থলে কাহএুপাদের কয়েকটি গ্রেমলীলা-র্ূপক-মণ্ডিত চর্ধাকে সেকালের প্রেমের কবিতার নিদর্শন মনে করা যাইতে পারে এগুলিকে স্থর-সংযোগে গাওয়া হইত। তিনি তৃবন মই বাহিঅ হেলে হাউ স্থতেলি মহাস্ৃহলীভে কইসনি হালো ডোম্বী তোহোরি ভাভরীআলি অস্তে কুলীনজন মাঝে' কাবালী। তই লো ভোম্বী সঅল বিটলিউ কাজ কারণ সসহর টালিউ। কেহো৷ কেহো। তোহে।রে বিরআ৷ বোলই বিছুজন লোঅ তোরে কণ্ঠ মেলঈ।

গন্গাদালের ছলোমঞ্জরীতে উদ্ধত

প্রেম-গীতির উত্তব বিকাশ ১৯

কাহু গাইউ কামচগালী ভোম্বিত আগলি নাহি চ্ছিণালী (চর্ধ্যা ১৮)১ --তিন ভূবন আমার দ্বারা হেলায় বাহিত হইল। আমি মহাস্খলীলায় ( অথবা মহান্খনীড়ে ) শুইলাম | ওলো ডোমনী, তোর ভাবনাপনা কি রকম? এক পাশে কুলীন ব্যক্তি আর মাঝখানে কাবাড়ি। ওগো ডোমনী, তুই সকল নষ্ট করিলি। কাজ নাই, কারণ নাই, শশধর টলাইলি। কেহ কেহ তোকে বিরূপ বলে, ( অথচ ) বিছজ্জনের! তোকে কণ্ঠ থেকে ছাড়ে না। কাহ্ন গাহিতেছে কামচগ্ডালী (গীতি), ডোমিনীর আগে ( অর্থাৎ বাড়া) ছিনাল নাই ।, চর্যাগীতির অন্থরূপ ছিল 'বজ্রগীতি'। বজ্ত্রগীতি গাওয়া হইত গুহ যৌগিক তান্ত্রিক অনুষ্ঠানে, “মগ্ডলচত্র"”-এ। এই যোগিনী-চক্ষ-অনুষ্ঠানে হেরুককে জাগানো হইত বজ্রগীতি গাহিয়া। বজগীতি গানঃ ভাষা বাঙ্গালা নয়, অবহটঠ। একটি বজ্রগীতির নমুনা! দিতেছি-_চারি যোগ্িনী অস্থনয় করিতেছে উদাসীন-প্রণয়ী প্রতৃকে প্রসন্ন করিবার জন্য, (যেন রাঁসে অন্তহিত কৃষ্ণকে গোপীর! ব্যাকুলভাবে ডাঁকিতেছে )। কিচ্ছে ণিচ্চঅ বিসাঅ গউ লোঅ ণিমস্তিঅ কাই, তহ বত্ত। জই সন্ভরসি উট্‌ঠহি সঅল বিসাই। কজজ অপপাণ বি কবিঅ পিঅ মা কর স্ুপ্জ বিচ্ছিত্ত, ভব-ভম পড়িআ সমল জণু উট্ঠহি জোইণি-মিত। পুবব পইজ্জহ সন্ভরসি মা! কর কাজ্জ-বিসাউ, তইঅথ মিল্প সঅল জণু পতিঅউ জগ অবসাউ।

*চর্ঘছাতিপদাবলী”, শ্রীসুতূমার স্নে সম্পাদিত

২৩ বৈষব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎদ

'মিচ্ছে মাণ বি মা করেহি পিঅ উট্ঠহ হুষপ্নসহাব কামহি জোইি-বিন্দ তু 'ফিটুটউ অহবা! ভাব ।+ _ “কাজ নিশ্চিত করিয়। লোক নিমন্ত্রণ করিয়া কেন বিষাদগত হইলে? তাহার বার্তা না যদি স্মরণ কর সকলে বিষাদে উঠিবে। নিজের কাজও কর! হইবে। প্রিয়, শৃল্ট বিক্ষিপ্ত করিও না ভবভয়ে পড়িয়াছে সকল জন, উঠছে যোগিনী-মিত্র। পূর্বপ্রতিজ্ঞা ন্মরণ কর, কার্ধবিষাদ করিও না, তোমার অর্থে মিলিয়াছে সকলজন। জগতের অবসাদ দুর হোক। মিছাই মান করিও না, প্রিয়। শূন্বস্বভাব তুমি উঠ। যোগিনীবৃন্দকে কামনা কর, অভব্াযভাব দুর হোক ভয়দেবের গীত-গোবিন্দকে একদিক হইতে বিচার করিলে প্রেমসংগীত বল! চলে। পববর্তী কালের বৈষ্ণব পদাবলীর বিষয় গঠন বীতি জয়দেবের গানের মতই। সঙ্গীত বা গান বলিতে যে ধরণের রচনাছাদ বুঝি তা সংস্কৃত সাহিত্যে নাই বলিলেই হয়। ইহা প্রারৃত-অপন্রংশ থেকেই আগত অবশ প্রয়োজনমত সংস্কৃত শ্লোকগুলি গাওয়া হইত। জয়দেবের আগে দুই এক ছত্রের "ধুয়া পদ দেখিতে পাই জয়দেবের “গীত-গোবিন্দ' কাব্যের গানগুলিই সংস্কৃত সাহিত্যের প্রকৃত গান। গানগুলির ভাষা সংস্কৃত হইলেও ছন্দ “অবহট্ঠ' হইতে লওয়। গীত-গো বিন্দই সংস্কৃত সাহিত্যের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ আর তাহার গানগুলিই সংস্কৃত ভাষার প্ররুত গান। বলিতে গেলে জয়দেবের গান লইম্লাই আধুনিক ভারতীয় আধভাষার সাহিত্যের সুচেনা। শ্রীকষ্ের বিরহ শ্রারাধার প্রতি সখী (দেশবরাড়ী রাগ, রূপক তাল ) বহতি ম্লয়সমীরে মঘনমুপনিধায় স্ক,টতি কুন্থমনিকরে বিরহিহৃদয়-দলনায় সখি সীদ্ঘতি তব বিরহে বনমালী 1৩

জাধনমাল! ২৪৪। চর্যানীতি-পদাবলী, জীনুকৃষার সেন সম্পাদিত পৃষ্ঠ! ২২-২৩ বৈ. প. পৃষ্ঠ! ৯১

প্রেমগীতির উদ্ভব বিকাশ ২৯

_এথন মদনোন্দীপক মলয়সমীর প্রবাহিত হইতেছে, বিরহিগণের বেদনাদায়ক কুস্থমসমূহ প্রক্ষটত হুইয়াছে। সী, তোমার বিরহে “বনমালী' অবসন্ন হইয়া পড়িয়াছেন

জয়দেবের সমকালীন অনেক সংস্কৃত প্রকীর্ণ কবিতা-সংগ্রহে বাধারুষ্ের প্রেমসংগীত অন্তান্ প্রাকৃত প্রেমের কবিতা৷ দেখা যায়।

চতুর্দশ শতাব্দের প্রথম পাদে মিথিলার শেষ স্বাধীন হিন্দু রাজ! হরিহর সিংহের মন্ত্রী উমাপতি উপাধ্যায় সংন্কতে “পারিজাতহবর্ণ নাটক রচনা করেন তাহাতে প্রাচীন মৈথিল ভাষায় রচিত একুশটি গান আছে। মৈথিল বাঙ্গাল ভাষায়__বিশেষ করিয়া ব্রজবুলিতে__পদাবলী রচনার প্রথম নির্দেশ এইখানেই পাইতেছি। দৃতী আসিয়া কৃষ্ণের কাছে নায়িকার বিরহদশার ছলে রূপ বর্ণনা করিতেছে

(নটরাগেন গীতম্‌)

কি কহব মাধব তনিক বিশেষে অপনহু তন্চ ধনি পাব কলেশে। অপন্গুক আনন আরসি হেরি চাদক ভরম কোপ কত বেৰি। ভরমহু নিঅ কর উর পর আনী পরশ তরশ সরসীরূহ জানী। চিকুরনিকর নিঅ নয়ন নিহারী জলধর ধার জানী হিঅহারী আপন বচন পিকরব অন্ুমানে হবি হরি তেমহু পরিতেজয় পরাণে। মাধব অব করিঅ সমধানে স্থপুরুধ নিঠর না রহয় নিদানে | স্বমতি উমাপতি ভণ পরিমাণে মাহেশরিদেই হিন্দুপতি জানে।

_-মাধব, তাহার অবস্থা কি বলিব ধনী আপনার দেহ লইয়! ক্লেশ পাইতেছে।

২২ বৈষ্ণব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

আরদিতে আপন মুখ দেখিয়া চাদ মনে করিয়া কতবার রাগ করে।

ভ্রমবশে নিজ হাত বুকে তুলিয়া পদ্ম মনে করিয়! সে স্পর্শে ত্রাস পায়। নিজের কেশপাশ চোখে পড়িলে মেঘজাল মনে করিয়া তাহার বুক কাপিয়া উঠে।

আপন বচন কুহুধ্বনি বলিয়া অন্গমান করে আর

হরি হরি, তখনি যেন প্রাণ বাহির হইতে চায়।

মাধব, এখনই সমাধান করিতে হইবে।

সুপুরুষ কখনো! শেষ পর্যন্ত নিষ্ুর রহিতে পারেন] স্ত্রী উমাপতি যথার্থ বলিয়াছেন

মাহেশ্বরী দেবীর পতি হিন্দুপতি (ইহার মর্ম) জানেন ।"

বড়ু চণ্তীদাসের কবিতাগুলিও তান-লয়ন্থর সংযোগে গাওয়া হইত। বাশীর ধ্বনি শুনিয়া রাধার মর্মম্পর্শী ব্যাকুলতা! প্রকাশ পাইয়াছে এই পদাটিতে-_ (কেদাররাগ, রূপক )

কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি কালিনী নই কুলে

কে না ধাশী বাএ বড়ামি গোঠ গোকুলে 1...

কে না বাশী বাএ বড়ায়ি সে না কোন জনা

দ[সী হা! তার পাএ নিশিবৌ আপনা।

কে না বাশী বাএ বড়ারি চিত্তের হরিষে

তার পাএ বড়ায়ি মে। কৈলে1 কোণ দোষে

আঝর ঝরএ মোর নয়নের পানী

বাশীর শবদে বড়ারি হারায়িলে1 পরাপী।...

পাখি নহে। তার ঠাই উড়ী পড়ি জাও

মেদিনী বিদার দেউ পসিআ্ী! লুকাও

বন পোড়ে আগ বড়ায়ি জগজনে জানী

মোর মন পোড়ে যেঙ্ন কুস্তারের পণী।

আস্তর স্থাএ মোর কাহ্ন অভিলাসে।

বাসলী-শিরে বন্দী গাইল চণ্ডীদাস ॥২

ডঃ মৃকৃমার সেন-_“বাজালা! সাহিত্যের ইতিহাস”, ১ম খণ্ড, পূর্বান্ধ পৃ. ৮৮) শ্রীক্ৃকফীর্ভন, বংশীধণ্ড। বৈ. প. পৃ-৩২।

প্রেম-গীতির উদ্ভব বিকাশ ২৩

বিষ্াপতির রাধারুষ্ণ বিষয়ক সংগীত চণ্তীদাসের পদাবলীও রাধারুষ্ণের প্রেমসংগীত বলা যায়। বিষ্তাপতির ভাবোল্লামের এই পদটি সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ একটি প্রেম-গীতি হিসাবে পরিগণিত হইবার যোগ্য আজু রজনী হাম ভাগে পোহায়লু পেখলু পিয়ামুখচন্দা জীবন যৌবন সফল করি যানলু* দ্রশদিস ভেল নিরদন্দ! আজু মঝু গেহ গেহ করি মানলু আজু মঝু দেহ ভেল দেহ আজু বিহি মোহে অন্থুকুল হোঅল * টুটল সধহু সন্দেহ | সোই কোকিল অব লাখ লাখ ডাঁকষ্ট লাখ উদয় করু চন্দা। পচবান অব লাখবান হোউ মলয় পবন বহু মন্দা অবহণ জবহু মোহে পরি হোয়ল তবহি মান তু নিজ দেহা বি্ভাপতি কহ অলপ ভাগি নহ ধনি ধনি তুয়া নব নেহা! ।১ -_-“আমার ভাগ্যে আজ রাত্রি প্রভাত হইল প্রিয়তমের চান্দমুখ দেখিলাম জীবন যৌবন সফল করিয়া মানিলাম। দশদিক নিষ্বন্বহইল। আজ আমার গৃহকে গৃহ বলিয়া! দেহকে দেহ বলিয়া মানিয়! লইলাম। আজ বিধাতা আমার প্রতি অনুকূল হইল, সমস্ত সন্দেহ মিটিল। সেই কোকিল এখন লাখে লাখে ডাকুক, লক্ষ চন্দ্র উদ্দিত হউক, পঞ্চবাণ এখন লক্ষবাণ হউক, মন্দ মলয় পবন প্রবাহিত হউক এখন যখন আমার পক্ষে এইরূপ হুইল, তখন নিজ দেহকে সার্থক মানিলাম। বিদ্যাপতি বলিতেছেন- অল্প ভাগ্য নহ, ধন্য ধন্য তোমার

লতুন প্রেম ।'

পদকজ্জতরু ১৯৯৬।

২৪ বৈষণব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

আবার চণ্তীদাসের পদে-+_ কাহারে কহিব মনের মরম কেব। যাবে পর্তীত। হিয়ার মাঝারে মরম বেদনা সদাই চমকে চিত 'গুরুজন আগে দাড়াইতে নারি সদা ছলছল আখি পুলকে আকুল দিক নেহারিতে সব শ্থামময় দেখি চৈতন্ত-পরবর্তী কালে মধুক্ষরা কাব্য-প্রবাহ গভীর খাতে বহমান। প্রীচৈতন্দেবের অলোকসামান্য জীবনলীলা ভক্ত কবিদের অন্তরে জাগাইয়াছিল সীমাহীন আবেগ প্রেরণা বৈষ্ণব সাহিত্যের ইতিহাসে ইহার মূল্য অপরিসীম প্রাচীন লিরিক বা গীতিকবিতা৷ ধর্মের আশ্রয়ে পুষ্ট হইয়াছিল অনেক ধর্মসন্প্রদায় গীতিকবিতার মাধ্যমে নিজেদের সাধন-ভজনের বা ধর্মতত্বের কথা প্রকাশ করিয়াছেন। বৈষ্ণব পদ/বলীতেও বৈষ্ব ধর্মমত ব্যক্তিগত সগ্ুণ ঈশ্বরের কখাই প্রকাশ করা হইয়াছে

| বিভিন় শ্রেণীর প্রেমকারবিতা

মমাজস্থ নরনারীর মধ্যে বিবিধ শ্রেণীর প্রেমসম্পর্ক বিদ্যমান এই প্রেম- সম্পর্ককে মোটামুটি দুইটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। দাম্পত্য প্রেম অর্থাৎ বিবাহিত নরনারীর বৈধ প্রেম-সম্পর্ক অদাম্পত্য প্রেম অর্থাৎ নরনারীর অবৈধ প্রেম-সম্পর্ক। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে সব রকমের প্রেম-সম্পর্কের উল্লেখ আছে। এই সুত্র ধরিয়াই সংস্কত অলংকার-শাস্তেও নায়িকাকে “্বকীয়া' পরকীয়া" 'সাধারণী' এই তিনভাগে ভাগ করা হইয়াছে

দাম্পত্য প্রেম বৈদিক সাহিত্যে দেখি স্ত্রী স্বামীর ধর্মপত্ী', সংসারের কর্্ী, স্থখ-ছ্খের অংশভাগিনী। সুখী গার্স্্জীবনই সেকালের সংসার জীবনের আদর্শ ছিল

প্রেম-গীতির উদ্ভব বিকাশ ২ঃ

গৃহে বিবাহিতা নারীর স্থান ছিল সকলের উধ্র্ধে। সমাজের ছোটবড় সকল কাজেই তার অধিকার ছিল। ধর্মশান্ত্রেও বিবাহিত নারীর মর্ধাদ। স্বীকত, স্ত্রীর পাতিত্রত্য সতীত্বের উপর জোর দেওয়া হইত। ব্যভিচাবিণী নারীর কঠোর শান্তির বিধান করা হইত

রামায়ণে সীতা চরিত্রের মধ্য দিয়! দাম্পত্য প্রেমের আদর্শ প্রতিফলিত হইয়াছে ম্বামী রামচন্দ্র বিন দোষে সীতাকে বিসর্জন দিলেন। সীতা কিন্ত নিজের ভাগ্যের উপরই দোষারোপ করিলেন। তিনি রামের দোষ একটুও দিলেন না। কালিদাসের রঘুবংশে দেখি বাম্মিকী সীতাদেবীকে বলিতেছেন-_

“ধুরি স্থিতা ত্বং পতিদেবতান।ং কিং তন্ন যেন|সি মমাম্ুকম্প্যা ।”

_-তুমি পতিত্রতাদের শিরোমণি আর কি চ্ই, যাহাতে তোমার উপর আমার অনুকম্পা হয়

ভবভৃতির “উত্তরর/মচবিতে'ও অনুরূপ ভাব লক্ষ্য কর্কি।

প্রকৃত্যৈব প্রিয়া সীতা! রামস্তাসীন্মহাত্মনঃ | প্রিয়ভাবঃ তু তয়া স্বগুপৈরেব বদ্ধিতঃ ॥, তখৈব রামঃ সীতায়াঃ প্রাণেভ্যোইপি প্রিষ্নৌইভবৎ | হৃদয়ং ত্বেব জানাতি প্রীতিযোগং পরস্পরমূ।

-“সীতাদেবী, শ্বভাবতই রামচন্দ্রের প্রিয়তমা! ছিলেন, কিন্তু সীতাদেবী 'সেই প্রিয়ভাবটা নিজ গুণেই বাড়াইয়াছিলেন। সেইরূপ রামও সীতার প্রাণ হইতেও প্রিয় ছিলেন তীহাদের হবদয়ই পরস্পরের প্রণয় জানিত

মহাভারতের “সাবিত্রী উপাখ্যান সাবিভ্রীর সতীত্ব ত্যাগ দেখানো হইয়াছে “দময়স্তী আখ্যানও পাতিব্রত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন

এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন পুরাণে বণ্পিত দক্ষকন্তা সতীর কাহিনী উল্লেখ করা উচিত সতীর মহাদেবের সঙ্গে বিবাহ হইয়াছিল। দক্ষ প্রজাপতি শিব- নিন্দা করিলেন স্বামীর নিন্দা সা করিতে না পারিয়া ক্ষোভে রোষে সতী হজ্ঞাগ্নিতে প্রাণ বিসর্জন দিলেন হিন্দুসমাজে সতীসাধ্বী নারীর আদর্শ হিসাবে এখনে তিনি পুজিতা হইয়া আসিতেছেন।

মহাভারতের শকুস্তলা-কাহিনী অবলম্বন করিয়! মহাকবি কালিদাস শকুন্তল নাটক লিখিয়াছিলেন- ইহাতে দাম্পত্য প্রেমের পরিপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়। ধেমন, মহর্ষি কম্বের উপদেশ ( শকুন্তলার প্রতি )__

২৬ বৈষব-পদাবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উস

* শুশ্রবন্য গুরুন্‌ কুরু প্রিয়সধী-বৃত্তিং সপত্বীজনে ভতুর্বিপ্রকতাপি রোষণতয়া মা ন্ম প্রতীপং গমঃ। ভূয়িষ্টং ভব দক্ষিণা পরিজনে ভোগেঘম্থংসেকিনী যান্ত্যেবং গৃহিণীপদং যুবতয়ো বাম! কুলস্তাধয়ঃ ॥১ _ গ্তরুজনদিগের সেবা করিয়া সপতীদিগের সহিত গ্রিয়সধীর মতো আচরণ করিও খারাগ্ন ব্যবহার পাইলেও ক্রোধবশে স্বামীর প্রতিকূল আচরণ করিও না। পরিজনদের প্রতি অত্যন্ত মুক্তহস্ত হইও, নানাবিধ ভোগের মধ্যে থাকিলেও গর্ববোধ করিও না। এইভাবে চলিলে অল্লবয়সী মেয়েরাও গৃহিণীর গৌরব লাভ করে। যাহার! বিপরীত আচরণ করে তাহার সংসারে ব্যাধির মত কালিদাসের “কুম|র-সম্ভব' কাব্যেও দাম্পত্য-প্রেমের নিখুত আদর্শ দেখা যায় বধূং দ্বিজঃ প্রাহ তবৈষ বংসে বহ্ছিবিবাহং প্রতি কর্মসাক্ষী। শিবেন ভর্রর সহ ধর্মচর্ধা কাধ্যা ত্বয়া মুক্তবিচারয়তি ॥২ _-প্পুরোহিত ব্রাহ্মণ বধূ উমাকে বলিল, “বংসে, তোমার বিবাহে অগ্নি কর্মসাক্ষী রহিলেন। দ্বিধা ছাড়িয়! শিবের সহিত ধর্মচর্য্যা তোমার কর্তব্য 1 গাথাসপ্তশতীতেও নরনা'বীর দাম্পত্য-প্রেমের চিত্র মেলে যেমন, পাঅপডিঅস্স পইণো পুটিঠং পুন্তে সমারুহত্তশ্মি | দঢমগ,দুপ্নিআএ বি হাসো ঘরিণীএ ণেককন্তো ॥৩ --পাদপতিত পতির পৃষ্টে পুত্রকে আরে।হণ করিতে দেখিয়া কোপবশত অত্যন্ত ছুঃখিতা৷ গৃহিণীরও হাসি নিঙ্ষান্ত হইল।' অপর একটি কবিতায় দেখি-_ সন্তমসন্তং ছুক্খং স্ুহং ঘরদস্স জাণন্তি। তা৷ পুত্তঅ যহিলাও সেসাও্ঁ জরা মণুস্সাণং 9 হে পুত্রক, যে বধূর বাড়ীর সকলের সদসং সুখ-দুঃখের বিচার করিয়। চলিতে জানে তাহ।রাই মহিলাপদবাচয, অন্যান্য রমণীরা কেবল মানুষের জরাসদৃশী (কুলক্ষয়কা'রিণী)

শহৃত্তলে 81২০ কৃমার-৭1৮২ গাহাসস্তলঈ ১১১ ৪6 গাহালতমঈ ৬১২

প্রেম-গীতির উত্তব বিকাশ ২.

মহাকবি "ভবভূতি তাহার “উত্তররামচরিত” নাটকে দাম্পত্য-প্রেমের স্বরূপ বিশ্লেষণ করিয়াছেন। সীতাকে বিসর্জন দিলেও পতী সীতার প্রতি রামের ভালবাসা একটুকুও ক্ষুঞ্জ হয় নাই। সব রকম অবস্থাতেই এক রকম ছিল। অন্থত্র শ্লোকটি একবার উদ্ধৃত হইয়াছে অদ্বৈতং হৃখছুঃখয়োরম্থগুণং সর্বস্ববস্থান্থ যৎ বিশ্রামো হবদয়ন্ত যত্র জরসা যন্মিন্নহার্যো রসঃ | কালেনাবরণাত্যয়াৎ পরিণতে যং স্সেহসারে স্থিতং ভদ্্রং তন্য স্থমান্ুষস্ত কথমপ্যেকং হি তং প্রাপ্যতে ॥১ _“যে বন্ধ স্থথ দুঃখের অভিন্ন আশ্রয় এবং সকল অবস্থাতেই অনুকূল, যেখানে পরিশ্রান্ত হৃদয়ের বিশ্রাম হয়, যাহার প্রতি অন্নুর[গিকে বার্ধক্যও হরণ করিতে পারেন! এবং কালে লঙ্জার আবরণের অভাব হইন্ধে যাহা অন্ুরাগের পরিপক্ক উংকৃষ্ট অংশে অবস্থান করে, সেই সঙ্জনের নিক্কুবচ্ছিম্ন সেই মঙ্গলটি অতিকষ্টেই পাওয়া যায় স্কৃত অলংকারশাস্ত্রে বিবাহিত ন।রীকে 'স্বীয়া” বা শ্বস্্ী' বলা হইয়াছে__: লজ্জাপজ্জত্পসাহণাইং পরভত্তিণিপিবাসাইং | অধিণঅদুম্মেহাইং ধঞ্নাণ ঘরে কলত্তাইং ॥২ রূপ গোল্বামীর বৈষ্ণবরসশান্ত্র “উজ্জলনীলমণিতে' বূক্বিণী, সত্যভা'ম। প্রভৃতি বিবাহিত কৃষ্ণবল্পভাদেব “ম্বকীয়া” বলা হইয়াছে” স্বকীয়াঃ পরকীয়াশ্চ দ্বিধা তাঃ পরিকীতিতাঃ করগ্রহবিষিং প্রাপ্তঃ পতু]র/দেশতংপর|ঃ | পাতিত্রত্যাদবিচলাঃ স্বকীয়াঃ কিতা ইব ॥৩

অদাম্পত্য প্রেম

অদাম্পত্য প্রেম বলিতে বুঝি অবিবাহিতা নারার--১। গৃহিত সম্পর্ক ; ২। অন্তান্য সম্পর্কের পুরুষের সহিত প্রেম রমণীর পরপুরুষের সহিত প্রেম,

উত্তররামচরিতের প্রথমান্কে

লঙ্জ! যাহার পর্ধাপ্ড ভূষণ, পরপুরুষের আকাঙ্গাশূণ্ত, অবিনয়ে যিনি অনভিজ্ঞা, এইক্ধপ সৌভাগ্যবতী রমণী ভাগাবানের ঘরে থাকেন।

শ্রীকৃষ্ণবঙ্পভাগণ দ্বিবিধ।-_স্বকীয়৷ পরকায়। | বাহার] পাণিগ্রহণের রীতি অনুগারে প্রাপ্তা, পতির আজ্ঞতানুবতিনী এবং পাতিত্রত্য ধর্ম হইতে কিছুতেই বিচলিত হন না, রগশাস্তে, তাহাদিগকে স্বকীয় নারিক। বলে।

উত্জলনীলমশি-হয়িপ্রিয়! প্রঃ ৩।৩০৪।

২৮ বৈষব-পদাঁবলী সাহিত্যের পশ্চাৎপট উৎস

ব্যভিচারী প্রেম, অবিবাহিতা কুমারীর প্রেম, বারবণিতার প্রেম। এই সমস্ত প্রেম সম্পর্ক লইয় প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে বহু প্রেমগীতি রচিত হইয়াছে, নব্য ভারতীয় ভাষাতেও ইহার প্রচুর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।

প্রথমেই নিষিদ্ধ সম্পর্কের কথা বলি। বৈদিক সাহিত্য মূলতঃ ধর্মগ্রন্থ, তবু ছুই-একটি আখ্যানে প্রেম-সম্পর্কের কথা আছে, খগবেদের যম-যমী সংবাদে দেখা যায় যম যমী হইতেছে ভ্রাতা ভগিনী, যমী যমকে বিবাহ করিতে বলিতেছে আর যম ভ্রাতাঁ-ভগিনী সম্পর্ক তুলিয়া বিবাহে অসম্মত হইতেছে

প্রান্কত প্রেম-কবিতার কোশকাব্য হালের "গাথাসপ্তশতী' হইতে দেবর- ভ্রাতৃজায়ার নিষিদ্ধ প্রেম-সম্পর্ক সম্বন্ধে কয়েকটি উদাহরণ দিতেছি-_

দিঅরস্স অস্ুদ্ধমণস্স কুলবহু নিঅঅকুডডলিহিআইং। দিঅহং কহেই রামাণুলগগসোমিত্তিচরিআইং ॥১

-দৃষিতচিত্ত দেবরের নিকট কুলবধূ নিজের (গৃহ) কুড্ডে চিত্রিত বা লিখিত রামান্থুরক্ত লক্ষণের চবিতগুলি দিবস ব্যাপিয়! বর্ণনা করিতেছে

অপর একটি গাথায় দেখি-_.

পুটি ঠং পুসম্থ কিসোঅরি পড়োহরক্কোন্নপত্তচিত্রলিঅং | ছেআহিং দিঅরজাআহিং উজ্জুএ