অমষের লোককথা

নন্দলাজ ভক্রাচখ্

প্রথম প্রকাশ : ১৯৬১

প্রচ্ছদ : শ্রীসৌমেন মুখাজা

প্রকাশক £

কেন্টবুকৃস্‌

১এ১ কলেজ বো; কলিকাতা-৭৯০ ০০৯

মুত্রাকর : কালাচাদ বাণী আর্ট প্রেস

১১১ নরেন সেন স্কোয়ার কলিকাতা-৭** *০৯

উও্নর্গ

কলাপীআ। মিন্ট,-কে

জেখকের অন্যান্ত বই-__ রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলার গল্প কোষ থেকে মানুষ সবুজবাডি পরিবেশের গল্প টা, থেকে ইনহ্চাট অমৃত পুজা।£

৯০] আনবে অনেক

গোড়ার কথা

জীবনের ছুঃখ বেদনা, বিশ্বাস) আকাজ্ষা এমন কী তীক্ষ ব্যঙ্গবিদ্রপও আশ্চর্য সারল্যে লোককাহিনীর মধ্যে ভাস্বর হয়ে ওঠে। তার মধ্য দিয়ে জাতি বা সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ভাবনা, জীবনবোধ এবং আচার অনুষ্ঠানের রূপটিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে কারণে, লোক- কাহিনী শুধুই গল্প নয়, জীবন সমাজের প্রতিচ্ছবিও।

বিভিন্ন প্রদেশের লোককাহিনীর অন্তরঙ্গ স্থুরটি কিন্তু একই ধারায় বেজে চলেছে। তাই সেগুলি জানার সঙ্গে সঙ্গে আশ্চর্য এক সংহতি- বোধও জেগে ওঠে মনে। ভারত আমার দেশ, প্রতিটি ভারতবাসী আমার ভাই বা বোন, এমন চিন্তা সহজেই দান৷ বাঁধে লোককাহিনী পড়তে পড়তে কারণেই এই সঙ্কলন।

একই ভৌগোলিক পরিবেশ সংস্কারের মধ্যে লোকায়ত জীবন বিকশিত হয়ে ওঠার মধ্যেই বাংল! অসমের লোককাহিনীর আশ্চর্য সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। অবশ্য শুধু বাংলা নয়, সব দেশের লোককাহিনীর মধ্যেই পাওয়া যায় ধরণের সাদৃশ্য

এই সম্কলনটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাহায্য পেয়েছি গুয়াহাি বিশ্ববিষ্ঠালয়ের অধ্যাপক প্রফুল্ল দত্ত গোস্বামীর “টেলস অব অসম" থেকে। তার জন্য তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বিভিন্ন রাজ্যের লোককাহিনী প্রকাশের সাধু উদ্যোগ নিয়ে শ্্রীবিন্দু ভট্টাচার্য এই

বইটিও প্রকাশ করছেন তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। আশ! করি, সব শ্রেণীর মানুষ তাকে জানাবেন অভিনন্দন। সেই সঙ্গে গ্রীতি শুভেচ্ছা জানাই, সোমনাথ নন্দীকে, যার উদ্যোগ ছাড়া হয়তো! কোনদিনই লেখা হত না! এবই। আর সবশেষে, যাদের জন্য বই লেখা তাদের যদি ভালো লাগে তবেই সার্থক হবে এই গল্পগুলি ফিরে বল! অলমিতি

ননলাল ভ্রাচার্য

সূচীপত্র

বিষয়

মার চেয়ে বড় নেই

বর্গে যায় মর্ঠ্যে আসে টিমটিম মানুষের আয়ু

চালাক বুড়োর টাকাকড়ি হাতির বন্ধু গেচ।

রাজার বাড়ি দেখতে গিয়ে মনটা ছল আমল রাজ! রাজপুত্র আর মন্ত্রের গল্প চাষী আর তার ছেলে সতীমতি বাই

রাবণের ভাগ

বাঘের বউ

ভাই ভাই এক ঠাই

বাঘ মামার ভাগে শেয়াল বুড়ো মত্ত গুধিন

হীরের টুকরো ছেলে

মোল্নায় ভাওতা৷

মার চেয়ে বড় নেই

গায়ের নামটি কেউ জানে না

সেই বুড়ির নামটিও কেউ জানে না।

এমন কি কোন্‌ কালে যে ঘটেছিল ঘটনাটা তাও কেউ জানে না। তবু ঘটনাটা সবাই জানে সবাই জানে, মা বড় ধন, মার চেয়ে আপনার আর নেই কেউ।

তাহলে গোড়া থেকেই বলি! নাম না জানা গায়ের সেই যে নাম না জানা! বুড়ি, তার আপনার বসতে কেউ ছিল না৷ এক ছেলে আর তার বউ ছাড়া।

বুড়ি তার ছেলেকে ভালবাসত দারুণ। ছেলেও তেমনি ভালবাসত তার মা-কে। ছেলের বউয়ের কিন্তু এসব ভাল লাগত না। তার সব সময়ই মনে হত বুড়ি মরে না কেন, তাহলে বেশ সুখে থাকত তারা

বুড়ি কিন্ত ছিল ভারি সহজ সরল মানুষ। বৌয়ের হেলাফেল। তাই সে চোখ মেলেও দেখত না ছেলে তাকে ভালবাসে এই মুখেই কাটত তার দিন।

বুড়ির একদিন হঠাৎ-ই ইচ্ছে হল রুই মাছের মুড়ে! খাওয়ার। প্রথমে সে চেষ্টা করল তার ওই ইচ্ছেটাকে মেরে ফেলার। কিন্তু সে যত চেষ্টা করে ততই ইচ্ছেটা যেন উন্জুনে বসানে! ছধের মত উথলে

অসমের লোককথা

উথলে উঠতে থাকে বুড়ি কিছুতেই পারে না ইচ্ছেটাকে ঠেকাতে।

একদিন শেবে লজ্জার মাথা খেয়ে ছেলের বৌ-কে বলে বুড়ি, বৌমা, একটি কথা বলি, কিছু মনে কোরো না যেন।

ওই মনে কোরো! না কথাটা শুনেই মুখটা একটু ব্যাজার হয় বৌয়ের ঠাণ্ডা মাথায় বলে, কি বলবেন বলুন ?

দেখ মা, কদিন ধরেই আমার রুই মাছের মুড়ে৷ খাওয়ার দারুণ সাধ হয়েছে। তা তুমি মা একদিন আমাকে কইয়ের মুড়োটা দিও কেমন !

বুড়ির ইচ্ছের কথা শুনে বৌয়ের পিত্তি যেন জ্বলে ওঠে। কিন্তু মুখে কিছু না বলে চলে যায় সে। বুড়ি ভাবে, সেদিনই খাবার পাতে পাবে সে মুড়ো।

বৌ কিন্তু বুড়িকে মুড়ো দেয় না। হয় সে নিজে খায়, কিংবা দেয় তার স্বামীকে ওদিকে রোজই খেতে বসে বুড়ি মাছের বাটিতে আঙুল ভোবায়। শুধু জল, শুধু জল। মুড়েো৷ দূরে থাক মাছের টুকরোও খু'জে বের করতে হয়। বুড়ি কিন্তু হাসি মুখেই বলে, বৌমা, ভুলে গেছ বুঝি

বৌটিও ঠাণ্ডা মাথায় বলে, সত্যিই ভূলে গেছি মা। বুড়ি আর কিছু বলে না। চুপচাপ খেয়ে নেয়। ভাবে পরদিন নিশ্চয় সে পাবে মাছের মুড়ে

পরদিনও সেই একই ব্যাপার। তার পরদিন-__তার পরদিন-_ রোজই সেই একই কথা, বৌমা, ভুলে গেছ বুঝি ?

যা মা, একদম ভুলে গেছি।

সেদিন ঘরে ছিল ছেলে মা আর বৌয়ের কথাটা! শোনে সে।

অসমের লোৌকবথ। কিন্ত বুঝতে পারে না কথার অর্থ তাই মাকে জিজ্ঞেস করে। কি হয়েছে মা, কিসের কথা বলছ।

ছেলেকে বুড়ি কোনরকম কষ্ট দিতে চায় না। সব শুনে পাছে ছেলে মনে ব্যাথা পায়, তাই বুড়ি তাড়াতাড়ি বলে। কিছু নয়ঃ কিছু নয় বাবা

ছেলের কৌতুহল কিন্তু তাতে মেটে না। বরং সাপের মত কিলবিলিয়ে ওঠে তা। তাই বৌকে সে জিজ্ঞেস করে, মা কিসের কথ! বলছিল ?

বৌ চারিদিক চেয়ে দেখে ফিসফিসিয়ে বলে, সে লজ্জার কথা আর কি বলব ভাবলেই ঘেন্নায় মরে যেতে ইচ্ছে হয়। মাগো মা কি লজ্জা

বৌয়ের ভনিতা দেখে চটে যায় ছেলে বেশ ধমকেই বলে, কি হয়েছে বলবে তো ?

বৌ আবার ফিসফিসিয়ে বলে, তোমার মা আবার বিয়ে করতে চায়। তাই বলছিল

কী, কী করতে চায়?

বিয়ে, বিয়ে গো

কথাটা শুনে ছেলে তো থ। সার! গাটা তার রি-রি করতে থাকে রাগে। যুখে শুধু বলে, করাচ্ছি বিয়ে।

পরদিন সকালে উঠেই ছেলে বলে মাকে, মা আমার সঙ্গে চল, তোমার য1 ইচ্ছে সব মিটিয়ে দেব আমি

: খুড়ি তো সহজ সরল মীুষ | -কিছু না বুঝেই সে বলে, চ্জ বাবা, কোথায় যেতে হবে।

অসমের লোককথা

ছেলে বলে এসো৷ আমার সঙ্গে

মা! আর ছেলে। হুজনে নেমে পড়ে পথে ছেলে হাটে হনহনিয়ে বুড়ি মা তাল রাখতে পারে না তার সঙ্গে-_তবু প্রায় ছুটতে ছুটতে চলে।

কষ্টে ঘাম ঝরে সারা অঙ্গ থেকে বুড়ির কিন্তু সেদিকে খেয়াল নেই। মাঝে মাঝে শুধু বলে ছেলেকে, দেখিস হোঁচট খাস না যেন।

পথ এক সময় শেষ হয় জঙ্গলে ছেলে ঢুকতে থাকে বনে। বুড়িও। অনেক গভীরে ঢোকে তারা তারপর বলা কওয়া নেই, বুড়িকে সেই বনে ছেড়ে দিয়ে ছেলে উধাও

উধাও নয় লুকিয়ে পড়ল। বুড়িকে ছেড়েছে যে গাছের তলায় তারই আড়ালে লুকিয়ে পড়ে ছেলে ইচ্ছে, কি করে তাই দেখবে

ওদিকে আকাশে তখন মেঘ করেছে ঘন কালে মেঘ। গুরুগুরু করে ডাকছে মেঘ। বৃষ্টিও নামে বমঝমিয়ে। কানে তাল! লাগিয়ে পড়ছে বাজ

বৃষ্টিতে সেই গাছের তলাতেও বুড়ি ভিজছে, ছেলে ভিজছে। নিজে যে ভিজছে সেদিকে বুড়ির খেয়াল নেই কোনো সে শুধু ডেকে যাচ্ছে ভগবানকে, হেই ভগবান, বৃষ্টিটা একটু থামাও। আমার ছেলেটা যে রয়েছে পথে-_সে ভিজে যাবে যে। হেই মেঘ, অমন করে ডাকে নাঃ বাজ তুমি এখন পড় না। বাছ আমার ঘরে যাক, বন্থুক একটু সুষ্থির হয়ে-_তারপর বৃষ্টি তুমি ঝমঝমিয়ে পড়, বাজ তুমি যত খুশি পড়, মেঘ তুমি যত খুশি ডেক।

গাছের আড়াল থেকে ছেলে শুনেই যায় মা'র কথা যত শোনে চোখে জল আসে তবু চুপ করেই থাকে সে।

অলমের লোককথা

বুড়ি বলে যায়, চেয়েছিলুম রুইয়ের মুড়ো৷ খেতে। তাই ছেলেকে আমার আসতে হল এই বনবাদাড়ে। এখন ঝড়জলে ভিজলে বাছার আমার শরীর খারাপ হবে যে। হেই বৃষ্টি, হেই মেঘ, হেই বজ্র দেবতা, _একটু খ্যামা দাও। বাছা আমার গৌঁছোক ঘরে--সেই ইস্তক থামে! তোমরা |

ছেলে আর আড়ালে থাকতে পারে না। বেরিয়ে আসে সে। মাকে বলে, মা, সত্যি করে বল তো ব্যাপারখানা কি? মাছের মুড়ো এই জঙ্গল- সত্যি করে বল কি হয়েছে?

মা এবার চোখের জলে বলে, লজ্জার কথা! কি বলব বাছা বুড়ি হয়েছি, তাই বুঝি নোল! বেড়েছে কদিন ধরে বড় মাছের মুড়ে! খাওয়ার সাধ হয়েছিল, তা বলেছিলুম বৌমাকে। রোজই খেতে বসে তাই বলতুম, ভুলে গেছ বুঝি ?

ছেলে এবার বোঝে সব। বোঝে সবই তার বৌয়ের শয়তানি মাকে নিয়ে ঘরে ফেরে সে। তারপর বৌ কে বেশ কয়েক ঘ! দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় সে।

নাম না জান! গাঁয়ের সেই শয়তান বৌটি কাদতে কাদতে নামে পথে।

স্বর্গে যায় মত্যে আসে 'টিমাঁটম

্থষ্টির সেই আদ্দিকালের কথা তখন না ছিল এই পৃথিবী না! মাটি, না গাছপালা! ছিল না! কোনো মানুষ কিংবা! জন্ত জানোয়ারও। পৃথিবী বলতে তখন ছিল শুধু জল আর জল

জলে ভাসা কিংবা জলে মোড়া এই পৃথিবীর অনেক__অনেক ওপরে স্বর্গে তখন বাস করছেন দেবতা তা একদিন দেবতার মনে হল তাইতো, ওই জলে ভাসা পৃথিবীর কোথাও কি জমেনি এতটুকু মাটি, যেখানে শুরু হতে পারে স্থ্টি।

দেবতা! মাটির তত্বতল্লাস করার জন্য তাই পাঠালেন ময়ূর আর টিমটিমকে (দোয়েল পাখি )। ময়ূর আর দোয়েল উড়তে উড়তে নেমে এল নিচে। তারপর তার! জলের ওপর চক্কর মারতে থাকে

চক্কর মারতে মারতে একসময় এক জায়গায় তারা দেখে জলের মধ্যে মাথা উঁচু করে জেগে উঠেছে একটু স্থল ময়ূর তে। মাটি দেখে নেমে পড়ে সেখানে সোনালি মুড়ির ফাকে ফাকে খুঁজতে থাকে খাবার। সত্যি কথা বলতে কি, সগ্ধ জেগে ওঠা ওই পৃথিবীর মায়ায় জড়িয়ে পড়ল ময়ূর ভুলে গেল স্বর্গের কথা

টিমটিম কিন্ত ভোলেনি কী কাজের জন্য তার আসা তাই মাটিতে না নেমে, ময়ূরকে সেখানে রেখেই টিমটিম ফিরে যায় স্বর্গে। দেবতাকে বলে পৃথিবীতে জলের মধ্যে জেগেছে মাটি।

অপমের লোককথা

সথষ্টি সুখের উল্লাসে নেচে ওঠে দেবতার মন। পৃথিবীতে নেমে এলেন তিনি। শুরু করেন তার স্থষ্টি কিন্তু স্থষ্টির সেই মুহুর্তে তার মনে পড়ে যায় ময়ূরের কথা ময়ূর ছিল তার বড় প্রিয় বড় বাধ্য। পৃথিবীর মায়ায় সে ভুলেছে স্বর্গকে__-তাই একটু ছুঃখুযে হল না তার তাও নয়। কিন্তু পৃথিবীতে যখনই দেখা হল ময়ূরের সঙ্গে তখনই অন্ুতাপে কেদে পড়ল ময়ূর দেবতার পায়। ময়ূরের কান্না! দেখে দেবতা ক্ষমা করলেন তীর প্রিয় ময়ূরকে। তাকে ভালবাসতেন বলেই সেদিন থেকে তিনি তার মুকুটে গুজে রাখলেন তার পালক

টিমটিম কিন্তু তার কাজের জন্ত পেল আরও বড় পুরস্কার আসলে সেষে তার কাজের কথা ভোলেনি, ময়ূরের মতো পৃথিবীর মাটিতে খাবারের খোজ করেনি, তার জন্ খুশি হয়ে দেবতা দিলেন বর, স্বর্গ আর পৃথিবীর মধ্যে সে করতে পারবে যাতায়াত যখন খুশি তার। কোথাও সে পাবে না এতটুকু বাধা

বর পেয়ে টিমটিম দারুণ খুশি গরমের সময় তিনটি মাস সে থাকে ত্বর্গে। সেখানেই ভিম পাড়ে ডিম থেকে বাচ্চা হয়। তারপর বাচ্চাদের সেখানে রেখে সে চলে আসে পৃথিবীতে শিস দিতে দিতে সুরে বেড়ায় আপন খেয়ালে

দেবতা যখন মাটির তল্লাসে ময়ূর আর টিমটিমকে পাঠান তার আগেই মাকড়সা এসে দেবতাকে জানায়, সে যেতে পারে পৃথিবীতে খোজ আনতে পারে মাটির। দেবতা তখন তাকে পৃথিবীতে পাঠাননি। কিন্ত সে যে সবার আগে পৃথিবীতে যেতে চেয়েছিল তার জন্যই দেবতা হলেন খুব খুশি খুশির চোটে একটি নয়, তিন তিনটে বর দিলেন তিনি মাকড়সাকে

অনমের লোককথা

বর দিলেন তিনি, মাকড়সার মুখ দিয়ে বেরুবে সুতো-_সেই ন্ুতো দিয়ে সে বুনতে পারবে জাল

শুধু জাল বোনা নয়, পাখনা না থাকলেও সেই জালের স্থৃতো ধরে মাকড়সা যখন খুশি যেতে পারবে ওপরে, নামতে পারবে নিচে। এককথায় বিনি ডানাতেই সে উড়বে প্রায় পাখির মত।

ওইসঙ্গে দিলেন বর খাবারের জন্য মাকড়সাকে ছুটতে হবে ন! কোথাও তার বোনা জালেতেই এসে ধর। দেবে তার খাবার

তৃতীয় বরে দেবতা বলেন, এবার থেকে মাকড়সা ডিম পাড়বে সোনালি রূপোলি রঙের তার রঙের জেল্লায় মাত হবে সবাই।

দেবতার তিন বরে দারুণ খুশি মাকড়সা খুশি টিমটিম-_্র্গে মরে যখন তখন যাওয়া আসা করতে পারার জন্ত। খুশি ময়ূরও__ দেবতা যে তার পালক মাথার মুকুটে গোজেন। তাছাড়া আর স্বর্গে যেতে না পারলেও সেই হল পৃথিবীর প্রথম পাখি__এটাও তে| কম আনন্দের নয়।

মানুষের আনু

স্ষ্টির কাজকর্ম তো৷ শেষ। পৃথিবীর নতুন মাটিতে গাছপাল। জন্মাতে শুরু করেছে। সেই গাছের ছায়ায় ছায়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষ, বাঁদর, সাপ, পাখি আরো! সব কত কি!

স্বর্গে বসে এইসব নতুন স্থষ্টি দেখতে দেখতে বিধাতাপুরুষের মুখে ছড়িয়ে পড়ে ভোরের রোদের মতো হাসি। মনে মনে ভাবেন তিনি, টির কাজ শেষ, এবার হাত ধুয়ে বসি অন্ত কাজে

হাত ধুতে গিয়েই বিধাতাপুরুষের মনে পড়ে গেল কথাটি। আরে, মস্ত ভুল হয়ে গেছে তো। সৃষ্টি তো করেছি, কিন্ত ওদের আয়ু দিতেই তো৷ ভুলে গেছি।

ব্যস, হাত ধোয়া মাথায় উঠল। বিধাতাপুরুষ আবার বসলেন তার স্বপ্নের সেই পিড়িটিতে-যেটায় বসে এতক্ষণ তিনি করছিলেন নানা সপ্টি। পিঁড়িতে বসেই হাক মারেন তিনি তার নতুন স্থষ্টিদের, ওহে তোমরা সব এসো তোমাদের আয়ুই যে দেওয়! হয়নি। এখানে এসে নিয়ে যাও যে যার আয়ু।

বিধাতাপুরুষের তল্লব পেয়েই স্থপহাপ শব্দ করতে করতে সবার আগে এসে হাজির বাদর। তাকে দেখে খুশিই হুল বিধাতাপুরুষ | বলেন, বা» আমার ডাক পেয়ে বেশ চটপট চলে এসেছে তো। যাও ভোমার আয়ু দিলাম যাট বছর

১৬ অসমের লোককথা

বাঁদর সরে ফ্লাড়াবার আগেই ্লৌ স্লো করে উড়ে আসে শকুন বিধাতাপুরুষের সামনে ডান! গুটিয়ে বসার মধ্যেই ফোঁস ফোঁস করতে করতে আসে সাপও।

বিধাতাপুরুষের আনন্দ যেন ধরে না তার স্থষ্টির দল হাঁক পেয়েই কেমন ছুটে এসেছে বেশ বাধ্য স্থবোধ এরা খুশিতে বিধাতাপুরুষ শকুন আর সাঁপকেও আয়ু দিলেন ৬০ বছর করেই

মানুষ এল সবার পরে হেলতে ছুলতে মানুষকে দেখে বিধাতা- পুরুষ বলেন, এতক্ষণে আসার সময় হল? সবাইকে সব আয়ু দিয়ে ফেললাম যাকগে, তোমাকে দিচ্ছি এই ৪০ বছর আয়ু।

৪* বছর আয়ু পেয়েই মানুষ বেশ খুশি আনন্দে গান গাইতে গাইতে ফিরে যায় সে পৃথিবীর দিকে।

সেই পথেতেই দেখা হয়ে গেল তার বাঁদর, শকুন আর সাপের সঙ্গে। মান্থুষকে অমন গান গাইতে দেখে তারা ভাবে, বিধাতাপুরুষ বোধহয় মানুষকে অনেক বছর আয়ু দিয়েছেন তাই অমন খুশি সে।

মানুষকে বিধাতাপুরুষ বেশি আয়ু দিয়েছেন ভেবেই হিংসায় একটা কালে মেঘ উঠল তাদের মনের আকাশে মানুষের আয়ু জানার জন্ম তারা! বলে, মান্থুষভাই, মান্ুষভাই, বিধাতাপুরুষ কত বছর আয়ু দিলেন তোমাকে

অনেক- অনেক বছর

কত- কত বছর?

৪০ বছর।

কথাটা শুনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে তারা যাক তাদের চেয়ে অনেক কম। কিন্তু তাতেই মানুষের অত আনন্দ দেখে তারা বলে,

অসমের লোককথা ১৯

কিন্তু মানুষ ভাই, বিধাতাপুরুষ তোমাকে ঠকিয়েছেন।

কেন, ঠকিয়েছেন কেন 1

তোমাকে আয়ু দিলেন মাত্র ৪০ বছর আর আমাদের দিয়েছেন তিনি ৬০ বছর করে

তাই নাকি?

তবে আর বলছি কি? তুমি বরং বিধাতাপুরুষকে গিয়ে বল, আমাকে এত কম আয়ু দিলেন কেন ?

বলব ! রেগে যাবেন না তো৷ তিনি?

রেগে যাবার কি আছে? বেশ, তোমার যদি ভয় করে, তাহলে আমরাও ন! হয় যাচ্ছি তোমার সঙ্গে

মানুষ বলে, সে তো খুবই ভাল হয়। এবার মানুষ, বাঁদর, শকুন আর সাপ ফিরে চলল বিধাতাপুরুষের কাছে

বিধাতাপুরুষ তাদের দেখেই বলেন, আবার কি হল, তোমাদের

তো আমি আয়ু দিয়েই দিলাম একটু আগে তা দিয়েছেন। মাথা চুলকে বলে মান্থুষ তবে?

ওদের অত বেশি করে দিলেন, আর আমার বেলায় এত কম !

কথাটা শুনেই বিধাতাপুরুষের মাথায় যেন রক্ত উঠে যায়। কী» আমি যা দিলাম তাতে খুশি নয় ; তা নিয়ে আবার কথা

বিধাতাপুরুষকে রাগতে দেখেই মানুষ জড়োসড়ো | বলে, আমি তো খুশিই ছিলাম ওই ৪০ বছর আয্ুতে। কিন্ত ওরাই তো! বলল আমাদের অনেক বেশি বেশি আয়ু. দিয়েছেন বিধাতাপুরুয় ; তুমি বল, দরবার করলেই তোমার আয়ও দেবেন বাড়িয়ে

১২ অসমের লোককথা

কথাটা শুনে বিধাতাপুরুষের রাগ আরো! বেড়ে গেল। বুঝলেন বাঁদর, শকুন আর সাপই যত নষ্ট্রের গোড়া ওরাই মানুষের মনে ঢুকিয়েছে অসম্তোষ, অবিশ্বাস, হিংসা তাই তিনি রেগে গিয়ে ওদের বলেন, যেমন তোমরা বিষিয়ে দিয়েছে৷ মানুষের মন, তেমন শাস্তি হিসেবে আমি তোমাদের আয়ু থেকে কেটে নিচ্ছি বছর করে। আর সেটা দিচ্ছি মানুষকে

বাঁদর, শুকুন, সাপ আর কি করবে ভুল যা করেছে, অন্তায় যা করেছে তার শাস্তি তাদের পেতেই হবে। বিধাতাপুরুষের কথাও 'তাদের মানতেই হবে। তাই মাথা নিচু করে মেনে নেয় তারা বিধাতাপুরুষের কথা

বিধাতাপুরুষ এবার মানুষকে বলেন, তুমি অন্তের কথায় নেচেছ। আমার ওপর ভরসা রাখতে পারনি পুরোপুরি, তাই তোমাকেও শাস্তি পেতে হবে।

মানুষ ভয়ে চুপচাপই থাকে বিধাতাপুরুষ বলেন, ওদের কাছ থেকে কেটে যে বাড়তি ৬০ বছর আয়ু দিলাম তোমাকে তার ফলও ভোগ করতে হবে তোমাকে ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তুমি হবে ওই বাঁদরের মতোই লোভী। ৬০ থেকে ৮০ বছর বয়স পর্যস্ত তোমাকে থাকতে হবে ওই শকুনের মতো! হাটু সুড়ে মাথা ঝুলিয়ে আর ৮* থেকে ১০০ বছর বয়স পর্যস্ত তোমাকে দিন কাটাতে হবে ওই সাপের মতো! বিছানায় শুয়ে শুয়ে যাও, এবার তাড়াতাড়ি সরে যাও এখান থেকে।

একরাশ ছঃখ মাথায় নিয়ে চারজনেই তাড়াতাড়ি সরে যায় বিধাতা- পুরুষের সামনে থেকে ভয় হয় তাদের, সামনে থাকলে হয়তো৷ রেগে

অসমের লোককথ।

আরো কড়া শাস্তি দিয়ে বববেন। তাই তার! ছোটে পৃথিবীর দিকেই যেতে যেতে বাঁদর, শকুন আর সাপ ভাবে, কি দরকার ছিল মানুষে মনে হিংসা! ঢোকানোর | মাঝখান থেকে নিজেদের আম়ুর কুড়িটা বছর গেল কমে।

মানুষও ভাবে, ওদের কথায় না নাচাই ছিল ভাল, বিধাতাপুরুষ দিয়েছিলেন তাতেই খুশি থাক৷ উচিত ছিল তা যখন করিনি তার ফল ভোগ করতে হবে আমাকেই।

সত্যিই তাই। তারপর থেকেই মানুষ তার ৪* থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত বেশ লোভী হয়ে গড়ে সব সময় খালি ছুকছুক করে। ৬০ বছরের পর তার পিঠ যায় বেঁকে, মাথা যায় ঝুলে, কোন কাজকর্মও করতে পারে না-_বসে থাকে হাঁটুতে মাথা ঠেকিয়ে। ৮* বছরের পর তাও পারে না-_সে তখন বিছানায় পড়ে থাকে চিংপটাং হয়ে ওই সাপেরই মতে৷। আর ওই ভাবেই একদিন যায় সে মরে। মরার আগে ভাবে, আর কখনও অবাধ্য হবে না বিধাতাপুরুষের | কিন্তু তখন বড্ড দেরি হয়ে গেছে--শাস্তি যা পাবার পেতেই হয় তাকে।

চালাক বুড়োর টাকাকাড়

পাথর কুঁদেই দিন কাটত সেই বুড়োর। একদিন পাথর নিতে গিয়ে বুড়ো! দেখে পাথরের একট ফোকরের মধ্যে ড্যাবড্যাবিয়ে তাকিয়ে আছে একটি সোনাব্যাঙউ। ব্যাউটার রঙ যেমন সোনালি সবুজ, ঠিক তেমনি তরতাজা সেই ব্যাঙটা।

ব্যাউটাকে দেখেই বুড়োর বুকে উথাল-পাতাল করে উঠল পরিবর্তনের ঢেউ। বুড়ে! ভাবে, শুকনো খটখটে এই নীরস পাথরের মধ্যে থেকেও ব্যাটা কেমন হষ্টপুষ্ট হয়ে উঠেছে। এই পাথরের ফোকরেও তার জনক খাবারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন বিধাতাপুরুষ। আর সে- সে কিন! এই বুড়ে। বয়সেও ছুটো৷ খাবার জোগাড়ের জন্য দিনরাত কুঁদে যাচ্ছে এই পাথরের চার

মনে মনেই ভাবে বুড়ো, ইস কি বোকা আমি। একবারও কেন মনে হয়নি, কপালে যা! আছে তা জুটবেই। কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না তা থেকে তাই বুড়ো ঠিক করে ফেলে আর কাজ নয়, এবার সে ঘরেই দিন কাটাবে শুয়ে বসে। দেখবে বিধাতাপুরুষ কি মেপে রেখেছেন তার জঙ্য |

যেমন ভাবা তেমন কাজ। বুড়ো সব কাজকর্ম ছেড়ে দিনরাত শুয়ে থাকে ঘরে। পাড়। প্রতিবেশী যার! তারা ভাবে, হল কি বুড়োর? কাজ ছেড়ে দিনরাত শুয়ে থাকে-_ওর খাওয়! জোটে কোথা থেকে?

অসমের লোককথ। ১৫

সত্যি কথা বলতে কি, সারা গায়ের মানুষ বুড়োর কাজ ছাড়ার কারণট]। জানার জঙ্ঠ ছটফট করতে থাকে কিন্ত জানতে পারে না কিছুই। এমন কি বুড়িকেও কিছু বলে না বুড়ো তাই বুড়ির কাছ থেকেও শুনতে না পেয়ে পেট যেন ফুলতে থাকে গায়ের মানুষের

কিছু ছুট লোক ঠিক করে নেয়, বুড়ো নিশ্চয় খোজ পেয়েছে কোনে গুপ্ুধনের-_ সেই টাকাতেই কাটাচ্ছে দিন পায়ের ওপর পা তুলে গাঁয়ের সেই ছুষ্টদের চারজন ঠিক করে, জানতে হবে রহস্যটা] চুরি করতে হবে বুড়োর টাকা

চার চোর রাতের অন্ধকারে আড়ি পাতে বুড়োর ঘরে। বুড়ো তখন বিছানায় শুয়ে দেখছে একটা স্বপ্ন বিডবিড় করে বলে চলেছে বুড়ো তার স্বপ্রের কথাগুলো

বুড়ি, বুড়ি, শোন না কেনে, কুয়োতলায় পাড়ে রয়েছে যে লেবুগাছটা-_তার তলায় রয়েছে একটা কলসি যেমন তেমন কলসি নয়, টাকা ভর্তি কলসি। কাল সকালেই লেবু গাছের গোড়াটা খু'ড়ে বের করে নিতে হবে টাকার কলসিটা।

চার চোর শোনে বুড়োর স্বপ্নের কথা তারপর বলে, থাক বুড়ো! এখন শুয়ে, সকালে উঠে দেখবে সব ভো-ভো।

বাড়ির কানাচ থেকে চার চোরে চলে যায় কুয়োতলায়। কুয়ো- তল্গার পাড়েই রয়েছে একট৷ লেবুগাছ। চারজনে এবার খু'ড়তে থাকে গাছের তলাটা। খানিকটা খোড়াখুড়ি করতেই ঠং করে শব হয়। তার! টেনে তোলে সেটা- সেই কলসিটা

ল্লোভে চিকচিক করে ওঠে চার চোরের চোখ তাড়ান্াড়ি তার! রাজজির,ঢাকনাটা খোলে তারপরেই যন্ত্রণায় চেঁচিয়ে' ওঠেনউফ. বঙ্গে

১$ অসমের লোককথা

কঙলগসির মুখে রয়েছে বোলতার চাক। নাড়া খেয়ে বেরিয়ে আসে ৰোলত৷ চাক ছেড়ে। হুল ফোটাতে থাকে চার চোরকে বোলতার সুলে নাস্তানাবুদ চার চোর তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দেয় ঢাকনা

বোলতার হলের জ্বালা বড় জ্বালা চার চোর সেই জ্বালায় জ্বলতে জ্বলতে বলে, হতচ্ছাড়৷ বুড়ো, আমাদের নাকাল করা, দেখাচ্ছি তোমাকে মজা

চার চোরে কলসিট৷ তুলে ছুড়ে ফেলে দেয় বুড়োর ঘরে। বোলতার ভুলে প্রাণ যাচ্ছে বুড়োর এই ভেবে চার চোর যেই ফিরেছে অমনি তারা শোনে টাকার ঝনঝন শব বুড়োর ঘরে কলসি থেকে পড়ছে টাকা

চার চোরের আকেল গুড়ম। কোথায় বুড়োকে বোলতায় কামডাবে, তা৷ নয় মাটি খু'ড়ে তারা বের করল যে কলসি তার টাকা- গুলে! পেয়ে গেল বুড়ো আর তাদের ভাগ্যে জুটল কিনা লবডস্কা। বোনতার হুলে ফুলে ওঠা মুখে হাত বোলাতে বোলাতে তারা বলে, জেনে রাখ বুড়ো, টাকা তোমার ভোগে লাগতে দেব না কিছুতেই কালকেই চুরি করে নেব তোমার ওই টাকা

বিষের জ্বালায় চোরগুলো বোধহয় একটু জোরেই বলেছিল কথাগুলো তাই বুড়ো শুনে ফেলল তাদের কথা সঙ্গে সঙ্গে চোখ মটকে বুড়োও ঠিক করে ফেলে মতলবটা। বুড়িকে ডেকে বলে, বুড়ি কাল আমি জিজ্দেস করলে যেমন শিখিয়ে দিচ্ছি-_তেম্নি উত্তর দিবি কিন্তু।

১০

বা উত্তরটা দেব কি?

অসমের লোককথ। ১৭

শোন, আমি বলব, বুড়ি টাকাগুলে। কোথায় রেখেছিস ? তুই বলবি খড়ের চালার নিচে মাচার ওপর, কেমন ?

বুড়ি জোরে জোরে মাথা নাড়ে তিনবার তারপর আবার ঘুমিয়ে পড়ে তারা

পরদিন রাতে চার চোর বুড়োর বাড়ির কাছে আসতেই ঠিক টের পেয়ে যায় বুড়ো তারপর টেঁচিয়েই বলে, বুড়ি, টাকাগুলো তুই কোথায় রেখেছিস ?

বুড়িও বেশ জোরেই বলে, কেন, চালার নিচে ওই মাচাটার ওপর

কথাট। শুনতে পেয়ে চার চোর বলে, বরাতটা আমাদের সত্যি ভাল। ন1 হলে এত সহজে জানা যায় টাকাট। রয়েছে কোথায় ?

এবার সল। করতে বসে চার চোরে। ঠিক করে ঘরের চালার খড় সরিয়ে একজন টুক করে নেবে পড়বে মাচার ওপর তারপর টাকার কলসিটাকে ওপরে তুলে দিয়ে সরে পড়বে সেখান থেকে

ফন্দি মাফিক ঘরের চাল ফাঁক করে এক চোর তার পা-টাকে নামিয়ে দেয়; কিন্ত মাচার হদিশ পায় না সে অন্যদের বলে, কই মাচা তো নেই! তার তিন সঙ্গী বলে, নিশ্চয় আছে-_তুই ছু-প৷ ঝুলিয়ে নেমে পড় ঝুপ করে

সেই প্রথম চোর তাই করে। সতিই কিন্ত চালার নিচে মাচা ছিল না। তাই চোরট! গিয়ে ধপাস করে শক্ত মাটির মেঝেতে পড়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে বুড়ো তার পেছনে একটা লাথি মেরে বের করে দেয় ঘর থেকে বলে, যথেষ্ট শিক্ষা! হয়েছে-__এইবার বাড়ি চাল যাও যাহু।

প্রথম চোর ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে যায় তার সঙ্গীদের কাছে। চার

১৮ অসমের লোককথ৷

চোরেই বলে, বেশ আজকের মতে! রেহাই দিলাম কালই দেখব, কেমন করে টাকা রাখ তুমি ঘরে।

বুড়ো কিন্তু শুনে ফেলে এই কথাগুলোও। তাই বুড়িকে বলে, কাল যখন জিজ্ঞেস করব, বুড়ি টাকাগ্চলে। কোথায় রেখেছিস ; তখন বলবি চাল রাখার ওই বেতের পাত্রটার মধ্যে

পরদিন রাতে আবার আসে চার চোর। টের পেয়েই বুড়ো বলে, বুড়ি টাকাগুলো এবার কোথায় রেখেছিস ? বুড়ি বলে, চাল রাখার ওই বেতের পাত্রটার মধ্যে |

চার চোরে এবার সি'ধ কেটে ঘরে ঢোকে ঘরের কোণে দেখতে পায় চালের পাত্রটা। তারপর সেটাকে টেনে নিয়ে বেরিয়ে যায় সি'ধকাটা গর্ত দিয়ে

এদিকে বুড়ো ছোট্ট একটা ধারালে। দা নিয়ে আগে থেকেই টুকে ছিল ওই বেতের পাত্রে। তাই ওটা বেশ ভারি লাগে চোরদের একজন বলে, এটা এত ভারি কেন বলত?

অন্থজন বলে, দূর মুখ্যু | শুনলি না, চাল রাখার পাত্র-_চাল আছে তাই ভারি

চোরেদের কথা শুনে মনে মনে হাসে বুড়ো বেতের পাত্রে চোরদের কাধে চেপে বেশ আরামেই চলে বুড়ো চলার পথে পড়ে একটা ছোট নদী। নদী পাড় হবার সময় জল ঢুকতে থাকে পাত্রে। সঙ্গে সঙ্গে বুড়ো চেঁচিয়ে বলে ওঠে, এই, হচ্ছেটা কি? আমি ভিজে গেলাম যে, তোল তোল ওপরে তোল।

চমকে ওঠে চার চোর। আওয়াজ আসে কোথা থেকে? বুঝতে না পেরে তারা বেতের পাজ্রটা নিয়ে এগিয়ে যায়। ভারি পান্রটা

অলমের লোককথ। ১৪৯

'আবার নিচু হতেই আবার জঙগ ঢোকে পাত্রে। বুড়ো আবার ঠেঁচিঃয় ওঠে, আরে আরে আমার পেছনটা যে একেবারে ভিজে গেল। শিগগির ওপরে তোল পাত্রটা

চার চোর এবার বুঝতে পারে, আবার ঠকেছে তারা। বুড়াটা রয়েছে পাত্রের মধ্যে আরাম করে সে চলেছে তাদের কাধে চড়ে। রেগেমেগে তারা পাত্রটা ফেলে দিয়ে রওনা হয়।

বুড়ো বেড়িয়ে আসে পাত্র থেকে। তারপর তার সেই ছোট্ট দাস্টা তুলে তারসে কী তড়পানি। ওরে পালাচ্ছিম কেন, আয় নিয়ে যা টাকা তোদের টাকা নেবার সাধ আমি একবারে মিটিয়ে দেব_আয়।

আর আয়-_চার চোর তখন ছুট দিয়েছে জোরে তাই দেখে বুড়ো এবার হাসতে থাকে হি-হি করে।

হাতির বন্ধু পেচা

সে এক রুপো নদী। দূর পাহাড়ের কোল থেকে নেমে কলকল খলখল কবে কথ! বলতে বলতে বয়ে চলেছে ঘন জঙ্গলের পাশ কাটিয়ে গায়ের পথে সেই রূপো নদীর ধারে এক গাছ। তাতে বাসা বেঁধেছে এক পেঁচা

পেঁচা হলেও ভূতুম নয় সে মোটেই। দিনের বেলা গাছের কোটরের মধ্যে থাকে ঘুঁময়ে। আর সূর্য যেই পাটে বসল অশ্ননি আড়মোড়া ভেঙে ওঠে সে। একটু একটু করে রাত নামে__পেঁচাও ডানা মেলে আকাশে

এঁদক ওদিক ঘুরে জোগাড় করে খাবার | গাছের ডালে বসে বেশ আয়েস করে খেতে থাকে তা! ততক্ষণে টাদ ওঠে আকাশে রূপো নদী করে আরো চকচক"। পাহাড়ের কোল থেকে নেমে আসে মস্ত শুঁড়ওল। এক হাতি।

হাতির সঙ্গে পেঁচার ভারি ভাব। নদীর জলে গা ভাসিয়ে বসে থাকে হাতি আর গাছের ডালে দোল খেতে খেতেই পেঁচা গল্প করে হাতির সঙ্গে। মে কত গাজোর গল্প। গল্পে গল্লে কেটে যায় রাত।

এক সময় পূব আকাশে লাগে লাল-_ুধি ঠাকুর উঁকি মারে একটু একট, করে। পেঁচা আবার ঢুকে পড়ে তার কোটরে-_

অসমের লোককথ৷ ২১

হাতিও চলে যায় বনে।

নদীর পাড়ে গাছ। আ্রোতের টানে মাটি যায় ধুয়ে, আলগা হয়ে আসে শেকড়। তারপর একদিন হুড়মুড়িয়ে পড়ে সে গাছ নদীর জলে গাছের ডালে পেঁচা__-ঘর হারানোর ব্যথায় কাদে

এমন সময় আসে হাতি। শু'ড় তুলে বলে হয়েছে কি? কাদছ কেন?

পেঁচা বলে, গাছ গেছে পড়ে, আমি থাকব কোথায় ?

কেন, অন্ত কোন গাছে।

কিন্তু এই গাছটাই যে ছিল ভাল তুমি তোমার শু'ড় দিয়ে ঠেলে দাড় করিয়ে দাওনা! গাছটাকে।

পেঁচার কথায় হাতি তার ওই মস্ত শু'ড় দিয়ে ঠেলে তোলে গাছটাকে। তারপর যেখানকার গাছ সেইখানেই তাকে দেয় দাড় করিয়ে

পেঁচা এখন দারুণ খুশি হাতির সঙ্গে তার এখন চলে আরো বেশি করে গল্প। গল্লে গল্পে অনেক সময় সে ভূলে যায় খাওয়ার কথা, হাতিরও হয় না নদীতে স্নান করা।

সেদিন আবার ম। পার্বতীর বাহন সেই বাঘটা দেখে বসল একটা জববর স্বপ্র। দেখল সে চিবিয়ে খাচ্ছে হাতির মাথাটা ন্বপ্রের মধ্যেই বাঘের জিভ দিয়ে ঝরতে থাকে জল ঘুম ভেঙে যায় তার। ঘুম ভাঙা চোখে আবার সে ভাবে, আহা যদি সত্যি হতো স্বপ্নটা-_ তাহলে হতো বেশ।

স্বপ্নর কথ! ভেবে শিরষ্াডা সোজা করে বার ছুই ডন বৈঠক দিয়ে নেয় বাঘটা। তারপর বাবা মহাদেবকে শোনায় স্বপ্রের কথা বলে,

২২ অসমের লোককথা!

আচ্ছা স্বপ্রের ব্যাপারটা কি সত্যি হতে পারে না?

কেন পারে ন! ? হাতির মাথাটা থাবা! মেরে খেয়ে নিলেই হয়।

কথাটা শুনে ফুত্তি আর ধরে না বাঘের। বার ছুই হালুম বলেই তিন লাফে চলে আসে নদীর ধারে-_হাতিটা যেখানে নাইছে।

পাবতীর বাঘকে দেখে হাতি বলে, কি ব্যাপার ভায়া, আজ হঠাৎ এদিকে ?

হঠাৎ আর বলি কি করে? স্বপ্র দেখলাম তোমার মাথাটা চিবুচ্ছি। বাবা মহাদেবকে বললাম, বাবা স্বপ্ন কি সত্যি হতে নেই ?

বাবা বসল, কেন থাকবে না, সত্যি করে নিলেই হয়। সে কথা শুনেই চলে এলুম তোমার কাছে__থাবা মেরে ভাঙব এবার মাথা ঠিক পাকা বেলের মত। তারপর একট, একট, করে খাব তোমার মাথার ওই কাচ ঘিলু।

বাঘের কথা শুনে হাতির মাথা ঘুরতে থাকে, চোখে অন্ধকার দেখে সে। অতবড় শরীরটা থেকে বেরিয়ে আসে একটা মিনমিনে আওয়াজ, বাবা মহাদেব আমার মাথা! ভাঙতে বলেছে?

নাহলে আর এমনি এলাম ? নাও তৈরি হ-ও--এবার মাথাটাকে থাবার ঘায়ে চিরে ফেলি।

হাতিটা এবার ভ্যাক করে কেঁদে ফেলে আর তা দেখেই ছলছলিয়ে ওঠে পেঁচার চোখ গাছের ভালে বসে এতক্ষণ সে শুনছিল সবার কথা তার একটা মাত্র বন্ধু এই হাতি, আর তাকে কিন! মেরে ফেলতে চায় বাঘ। না কিছুতেই তা হতে পারে না--বাঁচাতে হবে হাতিকে।

গাছের ডাল থেকে উড়ে বার কয়েক সে পাক খায় বাঘকে

অলমের লোককথ৷ ২৩

তারপর বলে, হু, ছু শুনলুম তোমার কথা কিন্তু সত্যিই বাব! মহাদেব একথা বলেছেন কিনা তাতো! জানি না। সত্তাকে জিজ্ঞেস না করে কিছুতেই দিতে পারি না তোমাকে এই হাতির মাথা ভাঙতে চল বাবা মহাদেবের কাছে তিনি যদি হ্যা বলেন, তাহলে তুমি ভেঙে হাতির মাথা

বাঘ এক কথাতেই রাজি। সে তো জানে একট আগেই বাবা মহাদেব বলেছেন তাকে, হ্যা হ্যা, অনায়াসে সত্যি করে নিতে পার তোমার ন্বপ্নকে মহাদেবের সে কথা শোনার পরই না সে এসেছে এখানে তাই পেঁচার এক কথাতেই রাজি সে।

বাঘ, হাতি আর পেঁচা বন থেকে তিনজনে রওন! হল মহাদেবের প্রাসাদের দিকে তিনজনে একসঙ্গে রওনা হলে হবে কি, তিনজনে চলছে তে। তিন চালে হাতি চলছে থপথপিযে, বাঘ লাফিয়ে লাফিয়ে আর পেঁচা! মাটি ছেড়ে ভান মেলে আকাশে

জঙ্গলের পথে রয়েছে নানা বাধা আর আকাশ অবাধ তাই পেঁচাই আগে এসে ঢোকে মহাদেবের প্রাসাদে

আগে এলে কি হবে, পেঁচা আসল কথাটাই গেল ভুলে এতটা পথ উড্ে এসে সে তলিয়ে যায় গভীর ঘুমে

বাব। মহাদেব এবার পেশ্চাকে প্রায় ধমকে বলে ওঠেন, এই হচ্ছ্েটা কি? এসেই যে ঘুমচ্ছে৷ বড়? বলি চাও কি?

বাবা মহাদেবের কথায় একটা চটকা মেরে জেগে ওঠে পেঁচা। তারপরই বলে ওঠে, বাবা, ঘুমের মধ্যে ভারি সুন্দর একটা স্বপ্প দেখছিলাম স্বপ্নটা তুমি সত্যি করে দাও ন! বাবা

কী, কী স্বপ্ন দেখছিলে ?

২৪ অসমের লোককথ।

দেখছিলাম আমি যেন বিয়ে করেছি দেকী পার্তীকে। বাবা, আমার স্বপ্রটা কি সত্যি হতে পারে না?

ধ্যৎ কি যাতা বলছ। বাব! মহাদেব একেবারে তেড়ে আসেন।

তাছাড়া স্বপ্ন হল স্বপ্র। স্বপ্ন কি কখনও সত্যি হয় নাকি?

মুখ কাচুমাচু করে পেঁচা বলে, স্বপ্ন তাহলে সত্যি হয় না?

না।

স্বপ্নে যা দেখা যায়__সত্যি তা কর! যায় না তাহলে

এক কথা বারবার কেন? বলছি তে। যায় না।

পেঁচা এবার একটু মুচকি হেসে উকিলের মতো! বলে ওঠে, বাবা, স্বপ্পে যা দেখা যায় সত্যি যদি তা কর] নাই যায়, তাহলে বাঘকে তুমি কি করে বললে, তার স্বপ্ন সে সত্যি করতে পারে? সে চিবিয়ে খেতে পারে এই হাতিটার মাথা

এতক্ষণে মহাদেবের মাথায় ঢোকে পৌচার কথা মাথাটা একটু চুলকিয়ে বলেন, বলেছিলাম নাকি বাঘকে না, বাঘ, কখ খনই তা হতে পারে না। হাতির মাথা তুমি চিবিয়ে খেতে পার না কোন রকমেই। যাও। যাও এবার সব।

হাতি আর পে"চ। ভক্তিভরে প্রণাম করে মহাদেবকে বাঘও করে, তবে ব্যাজার মুখে।

হাতির পিঠে চড়ে বসে পেশচা। তারপর হাসতে হাসতেই তার! ছুজনে চলে যায় সেই রুপো নদীর ধারে গাছটার দিকে

আর বাঘ-_বাঘটা তার অমন সুন্দর ভোজটা মাঠে মারা গেল দেখে গৌঁ-গেৌ করতে করতে রওনা হয় বনের উল্টো দিকে-_নতুন খাবারের খোঁজে

রাজার বাঁড় দেখতে গিয়ে

ওরা কখনও রাজাকে দেখেনি রাজ! কেন রাজধানীতেও যায়নি কখনও | ওর! মানে গাঁয়ের লোক ওর! গায়ে জন্মায়, গায়েই বড় হয় কাজকর্ম করে, আবার গীয়েই মার! যায়। বছরের শেষে আসে রাজার লোক। ওরা জানে রাজাকে কর দিতে হয়, তাই তাদের কাছেই কর দিয়ে দেয়।

এমনিই চলছিল ব্যাপারটা কিন্তু সেদিন হঠাৎই গীয়ের কয়েক- জনের মাথায় চাপল খেয়ালটা,_-চল একবার দেখে আমি আমাদের রাজার বাড়িটা

এককথাতেই রাজি ওরা ক'জন দল বেঁধে গামছায় চি'ড়ে মুড়ি বেঁধে ওরা রওনা হল। একদিন পৌছলও রাজধানীতে! অবাক চোখ মেলে ওর! দেখে রাজধানী-_-দেখে রাজার বড় বড় বাড়িগুলে। |

এমনিভাবে ঘুরতে ঘুরতে ওরা যখন ঠিক রাজার নিজের বাড়ির সামনে, তখনই রাজার দারোয়ানরা ঘিরে ধরে ওদের। ওরা কিছু বোঝার আগেই দারোয়ানর৷ বেঁধে ফেলে নিয়ে যায় রাজার কাছে।

রাজা তখন করছিলেন মৌতাত। তাই কোন কিছু শোনার সময় হল না তার। একরকম চোখ বুজেই বলেন, যাও, রেখে দাও €দের কারাগারে

গায়ের সহজ সরল মামুষগুলে! বুঝতে পারল না ওদের কস্থুর

২৬ অসমের লোককথা

কি? কোন দোষেতে ওদের কারাবাস?

মানুষগুলো সহজ সরল। কিন্তু বোকা নয়। নয় বলেই নিজেদের মধ্যে শুরু হয়ে গেল কথা একজন বলে, যাই বল ভাই, ইনি ইনি নন, উনি। দ্বিতীয় জন বলে, উনিই যদি হবেন তাহলে উনি কোথায় ? তৃতীয় জন বলে, কেন, এমনও তো হতে পারে যে, উনি ছাড়াই উনি।

কারাগারের রক্ষী এতক্ষণ শুনছিল ওদের কথাবার্তা কিন্তু ওই ইনি উনি” উনি” ইত্যাদি কথাগুলোর একবর্ণ অর্থও বুঝতে পারে না। রক্ষীরা ভাবে লোকগুলো কি পাগল? ন| হলে এমন অর্থহীন আবোলতাবোল বকছে কেন? তারা ধমকে বলে, এই কি বলছ তোমরা ?

লোকগুলো বলে, কিছু না।

“ও কিছু না” কথাটা শুনে পাহারাদারদের কেমন যেন সন্দেহ হয়। তার। রাজার কাছে গিয়ে বলে, লোকগুলো বোধহয় পাগল। কি জানি “ইনি, উনি” বলছে, আমরা তার মাথামুণ্ড কিছুই বুঝছি না

সব শুনে রাজারও কেমন যেন সন্দেহ হয়। তিনি তাদের তার কাছে নিয়ে আসতে বলেন। হুকুম পাওয়া মাত্র পাহারাওলার৷ লোকগুলোকে রাজার সামনে হাজির করে রাজা বলেন, এই তোমরা কী সব আবোলতাবোল বকছিলে ? কথাগুলোর অর্থ কী?

লোকগুলে! বলে, মহারাজ, আপনি আমাদের কয়েদে পুরেছেন, এমনি এমনি শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু আপনি রাজা আপনি যখন জিজ্ঞেস করেছেন তখন উত্তর নিশ্চয়ই দেব। তবে অপরাধ নেবেন না যেন।

অসমের লোককথ। ২৭

না, না, অপরাধ নেব না, বল তোমরা কি বলছিলে?

মহারাজ! আমরা বলছিলাম ইনি উনি নন, উনি-_অর্থাৎ ইনি রাজা নন, উনি। উনি মানে ওই ষখাড়টা।

সেকথা শুনে তম্যজন বলল, ইনি যদি উনি তাহলে উনি কোথায় ? অর্থাং ইনি যদি ষাড় তবে ওর শিং কোথায়?

সেকথা শুনে অন্তজন বলল, কেন এমনও তো! হতে পারে যে উনি ছাঁড়াই উনি অর্থাৎ শিং ছাড়াও তো ষশাড় হতে পারে

কথাগুলো শুনেই রাগে রাজা লাল। যেন কড়াইতে তেল ফুটছে টগবগ করে চিৎকার করে বলে ওঠেন তিনি, কী এতবড় সাহস তোমাদের? আমাকে বলছ কিনা একটা ষাড়! আমি এখুনি প্রাণদণ্ডের আদেশ দিলাম |

লোকগুলে৷ আবারও বলে, মহারাজ, অপরাধ নেবেন না আমরা কথাগুলো! কেন কিজন্য বলছিলাম, তা যদি একটু শোনেন-_

বেশ বল কিজন্য বলছিলে তোমরা ?

মহারাজ একটা ষাড়েব যতটুকু বুদ্ধি, বিচারশক্তি আছে আপনার তাও নেই দেখেই কথাগুলি বলছিলাম। একটা ষাড় আর কিছু না জানলেও, জানে কোনটি গোয়াল ঘর, কোনটা ঘাস, কোনটা জাবনা এইসব। অথচ আপনি রাজা, আপনি সেইটুকু বুদ্ধিও খরচ করতে চান না দেখে, কোনকিছু না শুনেই আমাদের কয়েদ করান দেখেই ওকথা বলা

রাজা এবার একটু লজ্জা পেয়ে যান। তাই একটু গলা- খাকারি দিয়ে বলেন, তা তোমরা কারা? উঁকিঝু"কি মারছিলে কেন?

২৮ অসমের লোককথা

লোকগুলি বলে, মহারাজ, আমরা আপনারই প্রজা আমর] থাকি গায়ে। আমাদের বাপঠাকুর্দারাও থাকত গীয়েই। কোনদিন তার। রাজাকে দেখেননি, বাজধানাও দেখেননি আর না দেখেই তারা মারাও যান। তাই আমাদের ইচ্ছে হয়েছিল একটু রাজধানীটা দেখার, আপনার বাড়িটা দেখার, আপনাকে দেখার, তাই এসেছিলাম এখানে কিন্তু এখন দেখছি না আসাই ছিল ভাল। না এলে রাজধানী দেখা হত না ঠিকই, কিন্তু কয়েদ খাটতে হত না।

ওদের কথা শুনে রাজা লজ্জা পেলেন আরও বেশি সঙ্গে সঙ্গে আদেশ দিলেন ওদের ছেড়ে দাও

তারপর বেশ ভাল কবে খাইরে দাইয়ে লোকজনদের বললেন, ওদের বেশ ভাল করে সবকিছু ঘুবিয়ে ফিবিয়ে দেখিয়ে দাও।

এবার ওর! আনন্দেই দেখল সব কিছু তারপর রাজাকে প্রণাম করে বলে, মহারাজ, আমাদের বিদায় দিন। আমরা ফিরে যাই আমাদের ছোট্ট গ্রামে

রাজা হাসিমুখে তাদেব বিদায় দ্রিলেন__দ্িলেন নানা রকম উপহার আর নিজের রথে করে পেণীছে দিলেন তাদের সেই ছোট্ট গীয়ে।

আর ওরা রাজদর্শনের ফল হাতে পেয়ে, রাজার জয় দিয়ে আনন্দে গান গাইতে গাইতেই ফিরে এল তাদের সেই পুরনো ছোট্র গায়ে।

মনটা হল আসল রাজা

সেই যে সেই গ্রামনটা, আহা, নাম একটা ধরে নাও না। সেই গ্রামেতেই থাকত দুজন লোক। একজন যেমন কদাকার কুচ্ছিত অন্তজন তেমনি সুন্দর-_অনেকে বলত যেন ময়ূর ছাড়া কাতিক।

যে লোকটি কদাকার সে জানত তার চেহারার কথা বেশ ভাল- ভাবেই জানত, তার রূপের জন্যই কেউ ফিরে তাকাবে না তার দিকে এটাও সে জানত শরীরের সৌন্দর্যটা স্থায়ী কোন ব্যাপার নয়, মনের সৌন্দর্যটাই সব। মানুষকে মানুষ মনে রাখে তার মানসিক সৌন্দর্য আর কাজের জন্তই। তাই সে করত ভালো কাজ। সব সময় চেষ্টা করত সৎ সুন্দর কিছু করতে

আর যে লোকটিকে দেখতে স্বন্দর সে দিনরাত রূপের গরবেই মরত। দিনরাত নিজেকে কি করে আরো সুন্দর দেখায় তার জন্য ব্স্ত থাকত। শুধু তাই নয়। তার রূপের দৌলতে নানা রকম আমোদ আহ্লাদেই দিন কাটাতে ভালবাসত সে। আমোদের জন্য যে কোন অন্যায় কাজ করতেও এতটুকু পিছপা ছিল না সে।

দিন যায়। বয়স বাড়ে। বুড়োও হয় ছুজনেই। আর হ'ল কি দুজনেই মারা গেল একই দিনে কদাকার সৎ মান্গুষটির মৃত্যুতে সবাই খুব ছুখ পেল। আর রূপবান দুষ্ট লোকটির মৃত্যুতে সবাই যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাঁচল। এতদিনে যে তার হাত থেকে

৩৩ অসমের লোককথা।

রেহাই পাওয়া গেল এই ভেবে খুশিও হল সবাই।

যাইহোক, ছুজনকেই নিয়ে যাওয়া হল শাশানে |

চিতায় যখন তোলা হল তাদের, সেই সময়েই সেখানে হাজির একজন লোক হেসে উঠল কিছুটা অস্বাভাবিকভাবে তার সেই উচু গলার হাসিতে বিরক্তও হল সবাই। শ্মশানে এসে হাসা, এষে রীতিমত অসভ্যতা তাই বিরক্তি থেকে রাগও এল তাদের

রাগ বিরক্তি থেকেই সবাই বলে লোকটিকে, কি ব্যাপার হঠাৎ অমন বেয়ারাভাবে হেসে উঠলে যে?

লোকটিও ততক্ষণ বুঝে গেছে অবস্থাটা তাই শান্তভাবে বলে, হাসির কারণ আছে একটা

কী সে কারণ?

এখন বলব না। গাঁয়ে ফিরে বারোয়ারি তলায় সবার সামনে বলব সব কথা লোকজন মেনে নিল তার কথা

এক সময় শেষ হল শ্বশানের কাজ ফিরে গেল সবাই যে যার ঘরে।

পরদিন বারোয়ারি তলায় সবাই হাজির এল সেই লোকটিও-_ যে হঠাৎ করে হেসে উঠেছিল শ্মশানে

লোকটি এবার বলতে শুরু করল, ভাইসব, সে বহুদিন আগের কথা একটা কাজে গিয়েছিলাম জঙ্গলে গিয়ে দেখি, একট! তেমাথার মোড়ে পড়ে রয়েছে একটা মড়া আর কতকগুলে! শকুন দেখছে মড়াটাকে।

পাশ কাটিয়ে যেই আমি চলে যাব, একট বুড়ো শকুন বলে, ওহে, মড়াটাকে ওই তেমাথা থেকে যদি সরিয়ে দাও তাহলে খুব খুশি

অলমের লোককথা ৩১

হব, চাই কি তোমাকে একটা বরও দেব।

আমি ভাবলাম, আর কী এমন কাজ তাই তেমাথা থেকে সরিয়ে দিলুম মড়াটাকে

বুড়ো শকুনও তাতে খুশি হয়ে বলল, আমার কথা শুনেছ বলে খুব আনন্দ হয়েছে আমার আজ থেকে তুমি শুনতে পাবে সব কথা-_ ষা শুনতে পায় না আর পাাচজনে, দেখতে পাবে সে সবও-_যা দেখতে পায় না অন্তে, আর জানতে পাবে তাও যা! অজানাই থেকে যায় অন্ত সবার

সত্যিই তাই। সেদিন থেকে আমি দেখতে পাই-_যা পায় না 'আর কেউ, জানতে পারি কিংবা শুনতে পারি সেসব যা পায় না কেউ। আর সেই ক্ষমতাতেই গতকাল আমি এমন কিছু দেখেছিলাম, শুনেছিলাম__যাতে হাসি চেপে রাখতে পারিনি ভাইসব, শ্মশানে ওভাবে হাসা উচিত নয় তা আমিও জানি। কিন্তু যদি সেই দৃশ্যটা দেখতে কিংবা কথাগুলো শুনতে তাহলে তোমরাও যে হেসে উঠতে এব্যাপারে আমি কিন্ত নিশ্চিত |

সবাই প্রায় একসঙ্গে বলে ওঠে, কী দেখেছিলে তুমি, কী গুনেছিলে ?

লোকটি বলে, ঘটনাটা তোমাদের সবার চোখের সামনেই ঘটেছিল, কিস্তু একমাত্র আমিই সেটা দেখেছিলাম

কী, কী সেটা?

চিতায় যখন ওদের হুজনকে তোলা হল তখন দেখলাম ভাল লোকটির আত্মা! তার শরীরকে ছাড়তে চায় না কিছুতেই সে ওই শরীরটাকে জড়িয়ে ধরে তাকে চুমু খেয়ে বারবারই বলতে থাকে ওহে

৩২ অপমের লোককথা

আমার হতকুচ্ছিত শরীর, তোমার জন্ত_স্থ্যা শুধু তোমার জন্থই আমি করতে পেরেছি যত ভাল কাজ। উপকার করতে পেরেছি অন্তের সেও শুধু তোমারই জন্য। আজ আমার সেই শরীর-_ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, কিন্তু তোমার জন্ঠই আমি যাব স্বর্গে। আমার শরীর ! তোমাকে ছাড়তে কিছুতেই যে মন চায় না আমার

অন্যদিকে সেই ছুট লোকটির আত্মা কী করল, কী বলল শুনবে ?

হ্যা, হ্যা, শুনব | বলতুমি।

দুষ্ট লোকটির আত্মা বলে উঠল, এই রূপ-_-এই শরীর-_আমাঁকে ঈশ্বরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এরজন্যই ভুলে ছিলাম আমি ভগবানকে এরজন্ই আমি করেছি হাজার হাজার অন্ঠায় কাজ। এই শরীরটাই পাপী এইসব বলে রাগে দুখে আত বারবার লাথি মারতে থাকল শরীরটাকে

আর এসব দেখেই আমি হাসি চাপতে পারিনি ভাইসব। বল, আমি কী অন্তায় করেছি?

সবাই স্বীকার করল হেসে লোকটি কোন অন্যায় করেনি মেই- সঙ্গে সবাই এটাও শিখল, শরীরের রূপ নয়, মনের রূপটাই খাঁটি। যে ভাল কাজ করে, ভাল কথ ভাবে এবং বলে সেই আসলে সুন্দর শরীরের সৌন্দর্যের কোন দামই নেই।

রাজপুত্র আর মন্ত্রীপুত্রের গল্প

রাজার ছেলে আর মন্ত্রীর ছেলে। দুজনে একবারে গলায় গলায় ভাব। সব কাজেই দেখা যাবে ওরা দুজন রয়েছে একই জায়গায়, একই সঙ্গে। ওদের রকমসকম দেখে রাজ্যের লোক ওদের ডাকে মানিকজোড় বলে- অবশ্যই ওদের আড়ালে

এই রাজার ছেলে আর মন্ত্রীর ছেলে শুধু যদি এমনি বন্ধু হতো তাহলে ভাবনার কিছু ছিল না কিন্তু ছুটিতে মিলে দিনরাত শুধু ষড়যন্ত্র করত কেমন করে মানুষের ওপর উৎপাত করা যায় তাই নিয়ে। হেন অপকর্ম নেই যা এই ছুটিতে মিলে করত না। সত্যি কথা বলতে কি, রাজা আর মন্ত্রীর ছেলে বলেই রাজ্যের প্রজারা অনেকদিন একরকম মুখ বুজেই ওদের অত্যাচার সহা করেছে

কিন্ত সহোরও তো৷ একটা সীমা! আছে। তাছাড়। প্রজারা কোন প্রতিবাদ করে না দেখে ওরাও নিত্য নতুন অত্যাচারের ফাদ পাতে শেষে একরকম অতিষ্ঠ হয়েই প্রজার! গিয়ে নালিশ করে রাজার কাছে।

সব শুনে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায় রাজার প্রজাদের মিষ্টি কথায় বিদায় দিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরি তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

রাজার একমাত্র ছেলে সে যদি এমন বেয়াড়া৷ আর অত্যাচারী হয় তাহলে তো রাজ্যের ভবিষ্যৎ অন্ধকার রাজ! ভাবেন যে করেই হোক শোধরাতে হবে রাজপুত্রকে নান চেষ্টাও করেন তিনি, কিন্তু দেখেন

৩৪ অসমের লোককথ।

তাতে শোধরাবার ছেলে নয় সে।

এবার ভাবেন, ওরা মানিকজোড় মিলেই এসব ছুষ্র্ম করে। তাই যদি ওদের জুটি ভাঙানো যায়, ওদের বন্ধুত্বে চিডধরানো যায়, তাহলে বোধহয় ফল পাওয়া যাবে তাই ছুঃবন্ধুর বিচ্ছেদ ঘটাবার জন্য চেষ্টা করেন তিনি।

না, সে কাজেও ব্যর্থ হন রাজা নানাভাবে চেষ্টা করেও ওদের বন্ধুত্ব ভাঙতে না পেরে তিনি ঘোষণা করে দেন, যে ওদের বন্ধুত্ব ভাঙতে পারবে তাকে তিনি অনেক পুরস্কার দেবেন

পুরস্কারের লোভে অনেকেই আসে রাজপুত্র আর মন্ত্ীপুত্রের বন্ধুত্বে ফাটল ধরাতে। কিন্তু বন্ধুত্বে ফাটল তো! ধরেই না, উল্টে তারাই আরো নাজেহাল হয়ে পালায়।

ব্যাপার দেখে রাজার প্রায় চোখের জল ফেলার অবস্থা দিনরাত শুধু ভাবেন, ছু"দিন বাদে যে রাজা হবে, সিংহাসনে বসবে-_সে যদি এমন অত্যাচারী হয় তাহলে প্রজারা যে একসময় বিদ্রোহ করবে, রাজ্য যে ছারখার হবে। রাজা শুধু ভাবেন আর ভাবেন।

এমন সময় একদিন এক বুড়ি এসে হাজির রাজসভায়। রাজাকে প্রণাম করে বুড়ি বলে, যদি অনুমতি করেন তবে আমি ভেঙে দিতে পারি রাজপুত্র আর মন্ত্ীপুত্রের বন্ধুত্ব

বুড়ির দিকে তাকিয়ে রাজা ভাবেন, কত বুদ্ধিমান লোক বন্ধুত্ব ভাঙতে এসে নিজেরাই নাজেহাল হল আর তো! সামান্ত একজন গেঁয়ো বুড়ি, কি পারবে ? মনে প্রশ্ন উঠলেও রাজ! ভাবেন, পারুক বা না পারুক চেষ্টা করতে দোষ কী? তাই বলেন, যদি ওদের বন্ধুত্ ভাঙতে পার তাহলে প্রচুর-_ প্রচুর পুরদ্কার দেব।